ঢাকা ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঘায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর পালিত সাভার থানা থেকে লুট হওয়া ৩৭ রাউন্ড গুলিসহ এক যুবক গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ সাভারের জাল সাক্ষরে মন্দিরের চাল আত্মাসাৎ ও হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ধামরাইয়ে ৪ বাড়ির সামনে কাফনের কাপড় আতঙ্কে এলাকাবাসী রয়েছেন নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ এর উদ্বোধন আদালতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ পরীমনির, মামলায় জামিন সাংবাদিক ও মালিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি বেতন বৃদ্ধি ঘিরে শ্রমিক অসন্তোষ এড়াতে চট্টগ্রামে সমন্বয় সভা বাঘার তেঁতুলিয়া বাজারে নকল ঔষধ তৈরির কারখানায় অভিযান আড়ানী রেলব্রিজ (KPI) পুলিশ প্রশাসনের বাৎসরিক পরিদর্শন

বাংলাদেশ-ভারত ভিসা কার্যক্রম আবারও পুরোপুরি সচল হচ্ছে

আনোয়ার হোসেন আন্নু বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬ ৩৪২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
322

আপনার দেওয়া সংবাদ প্রতিবেদনটিকে আধুনিক, সাবলীল ও প্রাতিষ্ঠানিক বাংলায় নিচে উপস্থাপন করা হলো:

গত কয়েক মাসের টানাপোড়েন শেষে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রথম ধাপ হিসেবে পুরোপুরি ভিসা সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ এরই মধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের সব ধরনের ভিসা দেওয়া শুরু করেছে। অন্যদিকে, ভারতও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ ভিসা সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

গত মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফর করেন। সে সময় ঢাকার পক্ষ থেকে তোলা অন্যতম প্রধান ইস্যু ছিল ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা। বর্তমানে ভারতের নয়াদিল্লিতে থাকা বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং কলকাতা, আগরতলা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের কনস্যুলার বিভাগসহ সব ভিসা কেন্দ্র পুরোদমে কাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির কাছেও দ্রুত একই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে ঢাকা।

এ বিষয়ে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে জানান, ‘গত বছরের ডিসেম্বরে আমাদের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল, যা ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় চালু করা হয়েছে।’

গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নেতৃত্বে একটি ভারতীয় প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। ওই দলে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রিও উপস্থিত ছিলেন।

২০২৪ সালের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্কে বেশ টানাপোড়েন দেখা দেয়। তবে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা ও দিল্লি সেই তিক্ততা কাটিয়ে সম্পর্ক নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হওয়ার পর ঢাকা ও দিল্লি অর্থনৈতিক সম্পর্ক, জ্বালানি সংযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে মনোযোগ দেবে। এমনকি আগামী সপ্তাহগুলোতে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার (ইরান) যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে ভারত বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করেছে।

নয়াদিল্লির সরকারি সূত্র মতে, গত বছর নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা সেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হলেও তা কখনোই পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে চিকিৎসা বা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, ভারতের ভিসা কার্যক্রম ধাপে ধাপে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের বর্তমান ভিসা সেবা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের আগের তুলনায় ১৫-২০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। এক্ষেত্রে অন্যান্য বিভাগের চেয়ে চিকিৎসা ও পারিবারিক ভিসাকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

শীঘ্রই বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারত দ্রুতই পুরোপুরি ভিসা সেবা চালু করবে।

নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ ফেব্রুয়ারি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে দুই মাসে ভারতীয় নাগরিকদের ১৩ হাজারের বেশি ভিসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসা, পর্যটন, চিকিৎসা এবং পারিবারিক প্রয়োজনে সীমান্ত পারাপারের মতো ভিসাও রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ভারতীয় নাগরিকরা সাধারণত নয়াদিল্লি, মুম্বাই ও চেন্নাই থেকে ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসার জন্য বেশি আবেদন করেন। অন্যদিকে, কলকাতা ও আগরতলার কনস্যুলার বিভাগগুলোতে মূলত পারিবারিক কারণেই বেশিরভাগ আবেদন জমা পড়ে।

পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে ভ্রমণকারী বিদেশি পর্যটকদের ২০ শতাংশেরও বেশি বাংলাদেশি। এদের মধ্যে চিকিৎসা, ব্যবসা এবং আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া মানুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, যাদের প্রধান গন্তব্য মূলত পশ্চিমবঙ্গ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২১ লাখ ২০ হাজার মানুষ ভারতে গিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে তা কিছুটা কমে ১৭ লাখ ৫০ হাজারে দাঁড়ায়।

তবে, ২০২৫ সালে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে মাত্র ৪ লাখ ৭০ হাজারে নেমে আসে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশ-ভারত ভিসা কার্যক্রম আবারও পুরোপুরি সচল হচ্ছে

আপডেট সময় : ০৫:৪৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
322

আপনার দেওয়া সংবাদ প্রতিবেদনটিকে আধুনিক, সাবলীল ও প্রাতিষ্ঠানিক বাংলায় নিচে উপস্থাপন করা হলো:

গত কয়েক মাসের টানাপোড়েন শেষে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রথম ধাপ হিসেবে পুরোপুরি ভিসা সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ এরই মধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের সব ধরনের ভিসা দেওয়া শুরু করেছে। অন্যদিকে, ভারতও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ ভিসা সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

গত মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফর করেন। সে সময় ঢাকার পক্ষ থেকে তোলা অন্যতম প্রধান ইস্যু ছিল ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা। বর্তমানে ভারতের নয়াদিল্লিতে থাকা বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং কলকাতা, আগরতলা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের কনস্যুলার বিভাগসহ সব ভিসা কেন্দ্র পুরোদমে কাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির কাছেও দ্রুত একই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে ঢাকা।

এ বিষয়ে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে জানান, ‘গত বছরের ডিসেম্বরে আমাদের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল, যা ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় চালু করা হয়েছে।’

গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নেতৃত্বে একটি ভারতীয় প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। ওই দলে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রিও উপস্থিত ছিলেন।

২০২৪ সালের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্কে বেশ টানাপোড়েন দেখা দেয়। তবে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা ও দিল্লি সেই তিক্ততা কাটিয়ে সম্পর্ক নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হওয়ার পর ঢাকা ও দিল্লি অর্থনৈতিক সম্পর্ক, জ্বালানি সংযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে মনোযোগ দেবে। এমনকি আগামী সপ্তাহগুলোতে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার (ইরান) যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে ভারত বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করেছে।

নয়াদিল্লির সরকারি সূত্র মতে, গত বছর নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা সেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হলেও তা কখনোই পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে চিকিৎসা বা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, ভারতের ভিসা কার্যক্রম ধাপে ধাপে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের বর্তমান ভিসা সেবা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের আগের তুলনায় ১৫-২০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। এক্ষেত্রে অন্যান্য বিভাগের চেয়ে চিকিৎসা ও পারিবারিক ভিসাকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

শীঘ্রই বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারত দ্রুতই পুরোপুরি ভিসা সেবা চালু করবে।

নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ ফেব্রুয়ারি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে দুই মাসে ভারতীয় নাগরিকদের ১৩ হাজারের বেশি ভিসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসা, পর্যটন, চিকিৎসা এবং পারিবারিক প্রয়োজনে সীমান্ত পারাপারের মতো ভিসাও রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ভারতীয় নাগরিকরা সাধারণত নয়াদিল্লি, মুম্বাই ও চেন্নাই থেকে ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসার জন্য বেশি আবেদন করেন। অন্যদিকে, কলকাতা ও আগরতলার কনস্যুলার বিভাগগুলোতে মূলত পারিবারিক কারণেই বেশিরভাগ আবেদন জমা পড়ে।

পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে ভ্রমণকারী বিদেশি পর্যটকদের ২০ শতাংশেরও বেশি বাংলাদেশি। এদের মধ্যে চিকিৎসা, ব্যবসা এবং আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া মানুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, যাদের প্রধান গন্তব্য মূলত পশ্চিমবঙ্গ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২১ লাখ ২০ হাজার মানুষ ভারতে গিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে তা কিছুটা কমে ১৭ লাখ ৫০ হাজারে দাঁড়ায়।

তবে, ২০২৫ সালে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে মাত্র ৪ লাখ ৭০ হাজারে নেমে আসে।