ঢাকা ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা জেলার নতুন পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন ধামরাইয়ে ওজনে তেল কম দিয়ে প্রতারণা করিম ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় রাজশাহী’র আদালতে পেশকারের কাছে চাঁদা দাবি, ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী আটক রাজশাহীর বাঘায় মাদক সেবনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ২ জন গ্রেপ্তার বাগমারায় ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির নামে অ‌তি‌রিক্ত টাকা আদায় ভোক্তভূ‌গী‌দের বিক্ষোভ রাঙামাটির নানিয়ারচরে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ লতাচাপলিতে ২ কোটি ৯২ লাখ টাকার ব্রিজ—রাস্তা নেই, ৭ বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ। উলিপুরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন আতঙ্কে জনপদ: স্কুল বাঁচাতে মানববন্ধনে শিশু শিক্ষার্থীদের কান্না বাঘায় সাপ্তাহিক চৌকিদার প্যারেডে ঈদুল আযহার নিরাপত্তা জোরদারে নির্দেশ প্রাণঘাতী অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার আগে গাছ কর্তনের দাবি এলাকাবাসীর

বাগমারায় ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির নামে অ‌তি‌রিক্ত টাকা আদায় ভোক্তভূ‌গী‌দের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতি‌বেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:১৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
14 / 100 SEO Score
37

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জে দলিল লেখক সমিতির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে দাতা-গ্রহীতাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দলিল লেখক সমিতির কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগীরা।

জানা যায়, মঙ্গলবার জমি রেজিস্ট্রি করতে ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির কার্যালয়ে যান জমির দাতা শাহনাজ বেগম এবং গ্রহীতা ময়েন উদ্দিন। দলিল লেখা শেষে রেজিস্ট্রির খরচ জানতে চাইলে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়।

জমির পরিমাণ ছিল মাত্র ২.৪৮ শতক। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দলিল লেখক ও গ্রহীতার মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে গ্রহীতার স্বজনরা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সমিতির নামে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। পরে অন্যান্য জমির ক্রেতা-গ্রহীতারাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। তারা অভিযোগ করেন, একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সমিতির নাম ব্যবহার করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা আরও জানান, জমির পরিমাণ বা মূল্য যাই হোক না কেন, রেজিস্ট্রির সময় অতিরিক্ত ‘গলা কাটা’ চার্জ দিতে বাধ্য করা হয়। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিষয়টি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারকে জানানো হলে সাময়িকভাবে রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতিতে কোনো নির্বাচিত কমিটি নেই। অভিযোগ রয়েছে, হানিফ, শামসুল, সানাউল ইসলাম, মামুনুর রশিদ ও নাজমুল ইসলামসহ প্রায় ১০ জনের একটি ভুঁইফোড় কমিটি গঠন করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগপন্থী একটি কমিটি সমিতি পরিচালনা করলেও সরকার পরিবর্তনের পর তারা আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর বিএনপিপন্থী কয়েকজন দলিল লেখক নির্বাচন ছাড়াই একটি পকেট কমিটি গঠন করেন।

তখন থেকেই অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রবণতা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। জমির গ্রহীতা ময়েন উদ্দিন বলেন, আমি টাকা দিয়ে জমি কিনেছি। সরকারি ফি’র বাইরে অন্য কোনো টাকা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। অথচ সমিতির নামে দ্বিগুণ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

অন্য ভুক্তভোগীরাও জানান, সমিতির উন্নয়নের নামে সামান্য অর্থ নেওয়া হলে আপত্তি থাকত না, কিন্তু জোরপূর্বক বড় অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির বর্তমান দায়িত্বে থাকা শামসুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে এখানে কোনো বৈধ সমিতি নেই।

যে যার মতো করে টাকা নিচ্ছে—কেউ ৪ হাজার, কেউ ৫ হাজার বা ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে। ভুক্তভোগীরা জানান দলিল ভেদে বিপুল পরিমাণ টাকা সমিতির নামে চাঁদা দিতে হয়। উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম বলেন, “অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই। মূলত এখানে কোনো সমিতিই নেই।” এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাগমারায় ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির নামে অ‌তি‌রিক্ত টাকা আদায় ভোক্তভূ‌গী‌দের বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৫:১৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
14 / 100 SEO Score
37

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জে দলিল লেখক সমিতির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে দাতা-গ্রহীতাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দলিল লেখক সমিতির কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগীরা।

জানা যায়, মঙ্গলবার জমি রেজিস্ট্রি করতে ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির কার্যালয়ে যান জমির দাতা শাহনাজ বেগম এবং গ্রহীতা ময়েন উদ্দিন। দলিল লেখা শেষে রেজিস্ট্রির খরচ জানতে চাইলে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়।

জমির পরিমাণ ছিল মাত্র ২.৪৮ শতক। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দলিল লেখক ও গ্রহীতার মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে গ্রহীতার স্বজনরা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সমিতির নামে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। পরে অন্যান্য জমির ক্রেতা-গ্রহীতারাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। তারা অভিযোগ করেন, একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সমিতির নাম ব্যবহার করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা আরও জানান, জমির পরিমাণ বা মূল্য যাই হোক না কেন, রেজিস্ট্রির সময় অতিরিক্ত ‘গলা কাটা’ চার্জ দিতে বাধ্য করা হয়। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিষয়টি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারকে জানানো হলে সাময়িকভাবে রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতিতে কোনো নির্বাচিত কমিটি নেই। অভিযোগ রয়েছে, হানিফ, শামসুল, সানাউল ইসলাম, মামুনুর রশিদ ও নাজমুল ইসলামসহ প্রায় ১০ জনের একটি ভুঁইফোড় কমিটি গঠন করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগপন্থী একটি কমিটি সমিতি পরিচালনা করলেও সরকার পরিবর্তনের পর তারা আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর বিএনপিপন্থী কয়েকজন দলিল লেখক নির্বাচন ছাড়াই একটি পকেট কমিটি গঠন করেন।

তখন থেকেই অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রবণতা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। জমির গ্রহীতা ময়েন উদ্দিন বলেন, আমি টাকা দিয়ে জমি কিনেছি। সরকারি ফি’র বাইরে অন্য কোনো টাকা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। অথচ সমিতির নামে দ্বিগুণ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

অন্য ভুক্তভোগীরাও জানান, সমিতির উন্নয়নের নামে সামান্য অর্থ নেওয়া হলে আপত্তি থাকত না, কিন্তু জোরপূর্বক বড় অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির বর্তমান দায়িত্বে থাকা শামসুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে এখানে কোনো বৈধ সমিতি নেই।

যে যার মতো করে টাকা নিচ্ছে—কেউ ৪ হাজার, কেউ ৫ হাজার বা ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে। ভুক্তভোগীরা জানান দলিল ভেদে বিপুল পরিমাণ টাকা সমিতির নামে চাঁদা দিতে হয়। উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম বলেন, “অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই। মূলত এখানে কোনো সমিতিই নেই।” এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।