ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভার ও আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামিদের দেখামাত্র গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন সালাউদ্দিন বাবু এমপি সাভারের পুলিশ ক্যাম্প থেকে আসামি পলানোর ঘটনায় দুই জন পুলিশকে ক্লোজড ব্র্যাকের উদ্যোগে বাঘায় ১৫ জন স্বপ্নসারথি কিশোরীকে প্রশিক্ষণ শেষে মুরগির বাচ্চা ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান চকরাজাপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী জগলু শিকদারের মাজার জিয়ারত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত উলিপুরে ফুল শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ৪৯ শিক্ষার্থী পেল সনদ ও নগদ অর্থ রাজশাহীতে ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ বাঘায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গলায় ওড়না পেঁ/চিয়ে শিক্ষার্থীর আ/ত্মহ/ত্যা সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান অবাঞ্ছিত ঘোষণা

লতাচাপলিতে ২ কোটি ৯২ লাখ টাকার ব্রিজ—রাস্তা নেই, ৭ বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ।

বিশেষ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৬৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
197

পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন লতাচাপলি ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে খালের উপর নির্মিত একটি বহুল আলোচিত ব্রিজ এখন উন্নয়নের প্রতীক নয়, বরং চরম দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ব্রিজটি নির্মাণের ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে।

মূল কারণ—এটির সঙ্গে কোনো সংযোগ সড়কই নির্মাণ করা হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিডি) বাস্তবায়িত এ প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ করা। কিন্তু পরিকল্পনার সুস্পষ্ট ঘাটতি, তদারকির দুর্বলতা এবং বাস্তবায়নে অব্যবস্থাপনার কারণে সেই লক্ষ্য পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি আজ এলাকাবাসীর কাছে এক নির্মম বিদ্রূপে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি নির্মাণের পর থেকেই এটি কার্যত ‘অচল’ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ কাঁচা পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়—কাদা ও পানিতে ডুবে যায় পথঘাট, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী এবং বয়স্ক মানুষজন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীরা বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণ করেছে, কিন্তু বাস্তবে এর কোনো সুফল আমরা পাচ্ছি না। এটি আমাদের সঙ্গে এক ধরনের প্রহসন।

এদিকে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, পটুয়াখালীর গিয়াস উদ্দিন নামের এক ঠিকাদার কাজটির লাইসেন্স পেলেও পরে তা অন্যের কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি করে দেন। ফলে কাজের মান, তদারকি এবং জবাবদিহিতায় বড় ধরনের ঘাটতি সৃষ্টি হয় এবং প্রকল্পটি বাস্তবিক অর্থে অপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে।

সচেতন মহলের মতে, এটি কেবল একটি অব্যবহৃত ব্রিজ নয়, বরং এটি উন্নয়ন পরিকল্পনার দুর্বলতা, সমন্বয়হীনতা এবং জবাবদিহিতার অভাবের একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। তারা অবিলম্বে ব্রিজটির সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ, প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের জোর দাবি—উন্নয়নের নামে অর্থ অপচয় নয়, বরং কার্যকর পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। এখন দেখার বিষয়—কর্তৃপক্ষ কবে এই জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

লতাচাপলিতে ২ কোটি ৯২ লাখ টাকার ব্রিজ—রাস্তা নেই, ৭ বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ।

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
197

পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন লতাচাপলি ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে খালের উপর নির্মিত একটি বহুল আলোচিত ব্রিজ এখন উন্নয়নের প্রতীক নয়, বরং চরম দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ব্রিজটি নির্মাণের ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে।

মূল কারণ—এটির সঙ্গে কোনো সংযোগ সড়কই নির্মাণ করা হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিডি) বাস্তবায়িত এ প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ করা। কিন্তু পরিকল্পনার সুস্পষ্ট ঘাটতি, তদারকির দুর্বলতা এবং বাস্তবায়নে অব্যবস্থাপনার কারণে সেই লক্ষ্য পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি আজ এলাকাবাসীর কাছে এক নির্মম বিদ্রূপে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি নির্মাণের পর থেকেই এটি কার্যত ‘অচল’ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ কাঁচা পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়—কাদা ও পানিতে ডুবে যায় পথঘাট, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী এবং বয়স্ক মানুষজন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীরা বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণ করেছে, কিন্তু বাস্তবে এর কোনো সুফল আমরা পাচ্ছি না। এটি আমাদের সঙ্গে এক ধরনের প্রহসন।

এদিকে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, পটুয়াখালীর গিয়াস উদ্দিন নামের এক ঠিকাদার কাজটির লাইসেন্স পেলেও পরে তা অন্যের কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি করে দেন। ফলে কাজের মান, তদারকি এবং জবাবদিহিতায় বড় ধরনের ঘাটতি সৃষ্টি হয় এবং প্রকল্পটি বাস্তবিক অর্থে অপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে।

সচেতন মহলের মতে, এটি কেবল একটি অব্যবহৃত ব্রিজ নয়, বরং এটি উন্নয়ন পরিকল্পনার দুর্বলতা, সমন্বয়হীনতা এবং জবাবদিহিতার অভাবের একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। তারা অবিলম্বে ব্রিজটির সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ, প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের জোর দাবি—উন্নয়নের নামে অর্থ অপচয় নয়, বরং কার্যকর পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। এখন দেখার বিষয়—কর্তৃপক্ষ কবে এই জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।