ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভারের মোফাজ্জল মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত বাঘার চকরাজাপুরে ২০০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ সাভারে নারী মাদক সিন্ডিকেটে আঘাত: ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ও ফেনসিডিলসহ দুই নারী কারবারি গ্রেপ্তার নান্দাইলে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন সভাপতির দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী আসন্ন বাঘা পৌর নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী মো কামাল হোসেন বাঘায় ফ্রি ফায়ার গেম ঘিরে সংঘর্ষে কুপিয়ে জখম ১ গ্রেপ্তার ফরিদ রাজশাহীতে দুই সাংবাদিকের ওপর নৃশংস হামলা সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি সাভার পৌরসভা ২ নং ওয়ার্ডে ঢাকা জেলা যুবদলের উদ্যোগে বংশী নদীতে মৎস্য অবমুক্তকরণ করে নান্দাইলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রথমবার এক টেবিলে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা জুলাই শহীদ জুবাইদের পরিবারের পাশে ছাত্রদল, পৌঁছে দিল তারেক রহমানের উপহার

লতাচাপলিতে ২ কোটি ৯২ লাখ টাকার ব্রিজ—রাস্তা নেই, ৭ বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ।

বিশেষ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ২৫৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
288

পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন লতাচাপলি ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে খালের উপর নির্মিত একটি বহুল আলোচিত ব্রিজ এখন উন্নয়নের প্রতীক নয়, বরং চরম দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ব্রিজটি নির্মাণের ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে।

মূল কারণ—এটির সঙ্গে কোনো সংযোগ সড়কই নির্মাণ করা হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিডি) বাস্তবায়িত এ প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ করা। কিন্তু পরিকল্পনার সুস্পষ্ট ঘাটতি, তদারকির দুর্বলতা এবং বাস্তবায়নে অব্যবস্থাপনার কারণে সেই লক্ষ্য পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি আজ এলাকাবাসীর কাছে এক নির্মম বিদ্রূপে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি নির্মাণের পর থেকেই এটি কার্যত ‘অচল’ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ কাঁচা পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়—কাদা ও পানিতে ডুবে যায় পথঘাট, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী এবং বয়স্ক মানুষজন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীরা বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণ করেছে, কিন্তু বাস্তবে এর কোনো সুফল আমরা পাচ্ছি না। এটি আমাদের সঙ্গে এক ধরনের প্রহসন।

এদিকে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, পটুয়াখালীর গিয়াস উদ্দিন নামের এক ঠিকাদার কাজটির লাইসেন্স পেলেও পরে তা অন্যের কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি করে দেন। ফলে কাজের মান, তদারকি এবং জবাবদিহিতায় বড় ধরনের ঘাটতি সৃষ্টি হয় এবং প্রকল্পটি বাস্তবিক অর্থে অপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে।

সচেতন মহলের মতে, এটি কেবল একটি অব্যবহৃত ব্রিজ নয়, বরং এটি উন্নয়ন পরিকল্পনার দুর্বলতা, সমন্বয়হীনতা এবং জবাবদিহিতার অভাবের একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। তারা অবিলম্বে ব্রিজটির সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ, প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের জোর দাবি—উন্নয়নের নামে অর্থ অপচয় নয়, বরং কার্যকর পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। এখন দেখার বিষয়—কর্তৃপক্ষ কবে এই জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

লতাচাপলিতে ২ কোটি ৯২ লাখ টাকার ব্রিজ—রাস্তা নেই, ৭ বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ।

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
288

পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন লতাচাপলি ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে খালের উপর নির্মিত একটি বহুল আলোচিত ব্রিজ এখন উন্নয়নের প্রতীক নয়, বরং চরম দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ব্রিজটি নির্মাণের ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে।

মূল কারণ—এটির সঙ্গে কোনো সংযোগ সড়কই নির্মাণ করা হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিডি) বাস্তবায়িত এ প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ করা। কিন্তু পরিকল্পনার সুস্পষ্ট ঘাটতি, তদারকির দুর্বলতা এবং বাস্তবায়নে অব্যবস্থাপনার কারণে সেই লক্ষ্য পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি আজ এলাকাবাসীর কাছে এক নির্মম বিদ্রূপে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি নির্মাণের পর থেকেই এটি কার্যত ‘অচল’ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ কাঁচা পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়—কাদা ও পানিতে ডুবে যায় পথঘাট, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী এবং বয়স্ক মানুষজন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীরা বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণ করেছে, কিন্তু বাস্তবে এর কোনো সুফল আমরা পাচ্ছি না। এটি আমাদের সঙ্গে এক ধরনের প্রহসন।

এদিকে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, পটুয়াখালীর গিয়াস উদ্দিন নামের এক ঠিকাদার কাজটির লাইসেন্স পেলেও পরে তা অন্যের কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি করে দেন। ফলে কাজের মান, তদারকি এবং জবাবদিহিতায় বড় ধরনের ঘাটতি সৃষ্টি হয় এবং প্রকল্পটি বাস্তবিক অর্থে অপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে।

সচেতন মহলের মতে, এটি কেবল একটি অব্যবহৃত ব্রিজ নয়, বরং এটি উন্নয়ন পরিকল্পনার দুর্বলতা, সমন্বয়হীনতা এবং জবাবদিহিতার অভাবের একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। তারা অবিলম্বে ব্রিজটির সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ, প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের জোর দাবি—উন্নয়নের নামে অর্থ অপচয় নয়, বরং কার্যকর পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। এখন দেখার বিষয়—কর্তৃপক্ষ কবে এই জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।