ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঘায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবিহা সুলতানা ডলির বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান: নান্দাইলে দুই ব্যবসায়ীর জেল রাজশাহীতে হত্যা ও প্রতারণাসহ একাধিক মামলার আসামি ‘কথিত সাংবাদিক’ চপল গ্রেফতার আশুলিয়ায় জুয়ার আসরে অভিযান সাতজন পেশাদার জুয়াড়ি গ্রেপ্তার করে উলিপুরে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু সহপাঠী আহত শরীয়তপুর থেকে কুয়াকাটা ঘুরতে এসে বাইক দুর্ঘটনায় কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু পবিত্র ঈদুল আজহার চতুর্থ দিনেও কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক, গাজীপুরে গ্রেপ্তার ৫ উলিপুরে রক্তাক্ত সংঘর্ষ: ছুরিকাঘাতে ৫ জন আহত, দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ময়মনসিংহে পিকআপ-অটোরিকশা সংঘর্ষে বাবা ছেলের মৃত্যু

চাকরীর নামে অর্থ আত্নসাৎ রামেকে টেন্ডার ও নিয়োগ বাণিজ্য

আবুল হাশেম রাজশাহী
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ১০৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
133

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে টেন্ডার বাণিজ্য, আউটসোর্সিং, নিয়োগ ও বিভিন্ন সেবা খাতে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এস.এম রাশিদুল সালেকিন (সুমন), পিএ-র নেতৃত্বে একটি চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং ওয়ার্ড মাস্টারসহ ৮-১০ জন ব্যক্তি এতে জড়িত।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০০৪ সাল থেকে এই সিন্ডিকেটের একচ্ছত্র আধিপত্য চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং অভিযুক্ত সুমনকে অন্যত্র বদলিও করা হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া এলাকার শরীফা বেগমের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন রামেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার রাসেল আলী ও মো. শহিদুল।

তাকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কন্ট্রোল রুমে পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে তাকে পরিচয়পত্র ও পোশাক দেওয়া হলেও নিয়মিত বেতন দেওয়া হয়নি—কখনও ২,৫০০, কখনও ৪,৫০০ টাকা দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। করোনাকালে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর পুনরায় কাজে যোগ দিলে চাকরি স্থায়ী করার কথা বললে অভিযুক্তরা অনৈতিক প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তার কাছ থেকে জোরপূর্বক পরিচয়পত্র ও পোশাক কেড়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।

এ ঘটনায় রামেক পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগী নারী (আমলী আদালত রাজপাড়া) মামলা করেন (মামলা নং- ৪৩৭, তারিখ: ০১/১২/২০২৪)। তবে এখনো তিনি টাকা ফেরত পাননি বলে জানিয়েছেন।

এছাড়া, ওয়ার্ড মাস্টার মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হাসপাতালের কোয়ার্টারে বিনা অনুমতিতে অতিরিক্ত ইউনিট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ১ জুন সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেব তার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন (স্মারক নং: রামেক হা/প্রশা/২০২৪/২৬৬০)।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপপরিচালক ডা. হাছানুল হাবিব ও রামেকের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেব-এর ছত্র ছায়ায় থেকে পি-এ এস.এম রাশিদুল সালেকিন সুমন বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট এজেন্ডা বাস্তবায়ন-সহ রামেকে দাপটের সাথে আজ আবদি রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই সিন্ডিরকেট বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ সদ্য যোগদানকৃত রামেক পরিচালককে সহযোগীতা না করা, নিজেদের মতো করে হাসপাতাল পরিচালনা করায় হাসপাতালের ভুন্ডুল অবস্থা বিরাজ করছে। সম্প্রতী ৩৩জন শিশুর মৃত্যু পুরো দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

তারপরও এই সিন্ডিকেট হাসপাতালের সুনাম রক্ষায় কোন প্রকার কাজ করছেন এমন কোন উদাহরণ তৈরী করছেন না বলেও অভিযোগ। ফ্যাসিস্ট আমলের এই সিন্ডিকেট বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তী নষ্ট করতে এবং চিকিৎসা খাতকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সক্রিয় ভুমিকায় রয়েছে বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সার্বিক বিষয়ে ভুক্তভোগীরা সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, সাবেক স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য ডিজি ও রামেকের সাবেক পরিচালক বরাবর অভিযোগ দেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। রামেক হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে এর আগেও একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

এসব প্রতিবেদনে চাকরির নামে প্রতারণা, ঘুষ গ্রহণ, মানববন্ধন এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, এতসব অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেবল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা ভুক্তভোগীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে রামেকের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেব বলেন, হাসপাতালের সার্বিক বিষয় তদারকি করেন পরিচালক। বিস্তারিত জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি। উপপরিচালক ডা. হাছানুল হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত পি-এ এস.এম রাশিদুল সালেকিন সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সিন্ডিকেটের কারণে হাসপাতালের সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ রোগী ও চাকরি প্রত্যাশীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এ ব্যপারে রাজশাহী মেডিকেল (কলেজ) রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম এর মুঠো ফোনে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চাকরীর নামে অর্থ আত্নসাৎ রামেকে টেন্ডার ও নিয়োগ বাণিজ্য

আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
133

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে টেন্ডার বাণিজ্য, আউটসোর্সিং, নিয়োগ ও বিভিন্ন সেবা খাতে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এস.এম রাশিদুল সালেকিন (সুমন), পিএ-র নেতৃত্বে একটি চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং ওয়ার্ড মাস্টারসহ ৮-১০ জন ব্যক্তি এতে জড়িত।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০০৪ সাল থেকে এই সিন্ডিকেটের একচ্ছত্র আধিপত্য চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং অভিযুক্ত সুমনকে অন্যত্র বদলিও করা হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া এলাকার শরীফা বেগমের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন রামেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার রাসেল আলী ও মো. শহিদুল।

তাকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কন্ট্রোল রুমে পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে তাকে পরিচয়পত্র ও পোশাক দেওয়া হলেও নিয়মিত বেতন দেওয়া হয়নি—কখনও ২,৫০০, কখনও ৪,৫০০ টাকা দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। করোনাকালে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর পুনরায় কাজে যোগ দিলে চাকরি স্থায়ী করার কথা বললে অভিযুক্তরা অনৈতিক প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তার কাছ থেকে জোরপূর্বক পরিচয়পত্র ও পোশাক কেড়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।

এ ঘটনায় রামেক পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগী নারী (আমলী আদালত রাজপাড়া) মামলা করেন (মামলা নং- ৪৩৭, তারিখ: ০১/১২/২০২৪)। তবে এখনো তিনি টাকা ফেরত পাননি বলে জানিয়েছেন।

এছাড়া, ওয়ার্ড মাস্টার মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হাসপাতালের কোয়ার্টারে বিনা অনুমতিতে অতিরিক্ত ইউনিট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ১ জুন সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেব তার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন (স্মারক নং: রামেক হা/প্রশা/২০২৪/২৬৬০)।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপপরিচালক ডা. হাছানুল হাবিব ও রামেকের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেব-এর ছত্র ছায়ায় থেকে পি-এ এস.এম রাশিদুল সালেকিন সুমন বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট এজেন্ডা বাস্তবায়ন-সহ রামেকে দাপটের সাথে আজ আবদি রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই সিন্ডিরকেট বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ সদ্য যোগদানকৃত রামেক পরিচালককে সহযোগীতা না করা, নিজেদের মতো করে হাসপাতাল পরিচালনা করায় হাসপাতালের ভুন্ডুল অবস্থা বিরাজ করছে। সম্প্রতী ৩৩জন শিশুর মৃত্যু পুরো দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

তারপরও এই সিন্ডিকেট হাসপাতালের সুনাম রক্ষায় কোন প্রকার কাজ করছেন এমন কোন উদাহরণ তৈরী করছেন না বলেও অভিযোগ। ফ্যাসিস্ট আমলের এই সিন্ডিকেট বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তী নষ্ট করতে এবং চিকিৎসা খাতকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সক্রিয় ভুমিকায় রয়েছে বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সার্বিক বিষয়ে ভুক্তভোগীরা সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, সাবেক স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য ডিজি ও রামেকের সাবেক পরিচালক বরাবর অভিযোগ দেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। রামেক হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে এর আগেও একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

এসব প্রতিবেদনে চাকরির নামে প্রতারণা, ঘুষ গ্রহণ, মানববন্ধন এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, এতসব অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেবল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা ভুক্তভোগীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে রামেকের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেব বলেন, হাসপাতালের সার্বিক বিষয় তদারকি করেন পরিচালক। বিস্তারিত জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি। উপপরিচালক ডা. হাছানুল হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত পি-এ এস.এম রাশিদুল সালেকিন সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সিন্ডিকেটের কারণে হাসপাতালের সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ রোগী ও চাকরি প্রত্যাশীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এ ব্যপারে রাজশাহী মেডিকেল (কলেজ) রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম এর মুঠো ফোনে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।