ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঘায় একই বিছানায় স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ নান্দাইলের গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে ডিজিটাল পরিকল্পনার উদ্যোগ সেবা সহজ করতে অনলাইনে গণশুনানির আয়োজন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনে’র প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চাওয়ার পরদিনই গোদাগাড়ীর শীর্ষ ব্যবসায়ী আজাদ আটক শাপলার হাসি বাঘায় পদ্মার শাখা নদীতে ডুবে যুবকের মৃত্যু মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশনের বিবৃতি বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আবেগঘন বার্তা, শৈশবের ছবি শেয়ার করলেন লামিনে ইয়ামাল আড়ানী পৌর বিএনপি কার্যালয়ে পেট্রোল বোমা হামলা বাগমারায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ডিশ ব্যবসা দখলের অভিযোগ ভুক্তভোগী নারীর সংবাদ সম্মেলন

জাবি ছাত্রীর র’ক্তা’ক্ত ম’র’দে’হ উদ্ধার স্বামী পুলিশ হেফাজতে

আনোয়ার হোসেন আন্নু বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:০১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ ২৮০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
304

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রী শারমিন জাহানের র’ক্তা’ক্ত ও ক্ষ’তবি’ক্ষত মর’দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৫ মার্চ) বিকালে ক্যাম্পাস সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় তার স্বামী ফাহিম আল হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহত শারমিন জাহান (২১) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামীর সাথে বাসা ভাড়া নিয়ে তিনি সেখানে থাকতেন বলে জানা গেছে।

নিহতের স্বামী ফাহিমের ভাষ্যমতে, রবিবার সকালে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই ঢাকায় গিয়ে মোবাইল ফোন কেনার কথা ছিল। কিন্তু শারমিন শারীরিকভাবে অসুস্থ (লো ব্লাড প্রেসার) অনুভব করায় ফাহিম একা ঢাকায় যান। পরে ঢাকা থেকে শারমিনকে একাধিকবার ম্যাসেজ দিলেও কোনো উত্তর পাননি।

এদিকে শারমিনের মা ফোনে মেয়েকে না পেয়ে ফাহিমকে কল করেন। দুপুর ২টা থেকে ৩টার দিকে ফাহিম বাসায় ফিরে সামনের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পান। বারবার ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পাওয়ায় বাড়িওয়ালার উপস্থিতিতে ও তার পরামর্শে পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।

ভেতরে ঢুকে মেঝেতে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় শারমিনকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে স্বামী ও বাড়িওয়ালার সহযোগিতায় দ্রুত শারমিনকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শারমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফাহিম আরও জানান, বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা একটি লাগেজ গুছিয়ে রেখেছিলেন, যা ঘরের ভেতর এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল। এ ছাড়া ঘটনার পর থেকে শারমিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপটি পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতি কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাশিদুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে আনা হলে আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হই। সেখান থেকে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার বিষয়ে সাভার ও আশুলিয়া থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে কাজ করছে। নিবিড় তদন্তের জন্য ডিবি ও সিআইডিকে ডাকা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। এছাড়া তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় এ বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জাবি ছাত্রীর র’ক্তা’ক্ত ম’র’দে’হ উদ্ধার স্বামী পুলিশ হেফাজতে

আপডেট সময় : ০৮:০১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
304

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রী শারমিন জাহানের র’ক্তা’ক্ত ও ক্ষ’তবি’ক্ষত মর’দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৫ মার্চ) বিকালে ক্যাম্পাস সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় তার স্বামী ফাহিম আল হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহত শারমিন জাহান (২১) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামীর সাথে বাসা ভাড়া নিয়ে তিনি সেখানে থাকতেন বলে জানা গেছে।

নিহতের স্বামী ফাহিমের ভাষ্যমতে, রবিবার সকালে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই ঢাকায় গিয়ে মোবাইল ফোন কেনার কথা ছিল। কিন্তু শারমিন শারীরিকভাবে অসুস্থ (লো ব্লাড প্রেসার) অনুভব করায় ফাহিম একা ঢাকায় যান। পরে ঢাকা থেকে শারমিনকে একাধিকবার ম্যাসেজ দিলেও কোনো উত্তর পাননি।

এদিকে শারমিনের মা ফোনে মেয়েকে না পেয়ে ফাহিমকে কল করেন। দুপুর ২টা থেকে ৩টার দিকে ফাহিম বাসায় ফিরে সামনের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পান। বারবার ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পাওয়ায় বাড়িওয়ালার উপস্থিতিতে ও তার পরামর্শে পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।

ভেতরে ঢুকে মেঝেতে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় শারমিনকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে স্বামী ও বাড়িওয়ালার সহযোগিতায় দ্রুত শারমিনকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শারমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফাহিম আরও জানান, বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা একটি লাগেজ গুছিয়ে রেখেছিলেন, যা ঘরের ভেতর এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল। এ ছাড়া ঘটনার পর থেকে শারমিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপটি পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতি কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাশিদুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে আনা হলে আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হই। সেখান থেকে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার বিষয়ে সাভার ও আশুলিয়া থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে কাজ করছে। নিবিড় তদন্তের জন্য ডিবি ও সিআইডিকে ডাকা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। এছাড়া তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় এ বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।