ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত উলিপুরে ফুল শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ৪৯ শিক্ষার্থী পেল সনদ ও নগদ অর্থ রাজশাহীতে ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ বাঘায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গলায় ওড়না পেঁ/চিয়ে শিক্ষার্থীর আ/ত্মহ/ত্যা সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান অবাঞ্ছিত ঘোষণা উলিপুরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার উলিপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান সরকারের দাফন সম্পন্ন বাঘায় ৭ম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী নিখোঁজ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ রাজশাহীতে ২ রেস্তোরাঁয় হামলা ককটেল বিস্ফোরণ পুলিশ আহত প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৪

মুজাহিদ হোসেন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ২৪৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
269

নওগাঁ সদর উপজেলার চাঞ্চল্যকর মিতু বানু হত্যা ও সেপটিক ট্যাংকে লাশ গোপন করার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জানুয়ারি সকালে আসামি জাহান আলী মনতাসুর নামে এক ব্যক্তিকে ফোন করে জানায় যে, তার বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে একটি লাশ রয়েছে। বিষয়টি জানার পরদিন সকালে নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের ট্যাংকির ভেতর থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করে। পরে এ ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা (নং-৪৭) দায়ের করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মামলাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ চারজন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানায়, গত ৭ মার্চ প্রথমে জাহান আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯ মার্চ সামিদুল ও সুজ্জাতকে এবং ১০ মার্চ রেন্টু ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা মিস মিতু বানুকে ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে নওগাঁ শহর থেকে বিল ভবানীপুর গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে গ্রামের মালা নামের এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত বাড়িতে জাহান আলী, রেন্টু, সুজ্জাত, সামিদুলসহ আরও ১-২ জন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল।

এ সময় টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে ভিকটিম মিতু বানু চিৎকার শুরু করেন। এতে মানসম্মানের ভয়ে আসামি রেন্টু তার মুখ ও গলা চেপে ধরে এবং অন্যরা হাত-পা ধরে রাখে। কিছুক্ষণ পর মিতু মারা গেলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে রেন্টুর পরামর্শে সবাই মিলে বিল ভবানীপুর গ্রামের মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে লাশ ফেলে গোপন করে রাখে।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি সামিদুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ যেকোনো ধরনের অপরাধের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে সর্বদা তৎপর রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৪

আপডেট সময় : ১০:৫৫:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
269

নওগাঁ সদর উপজেলার চাঞ্চল্যকর মিতু বানু হত্যা ও সেপটিক ট্যাংকে লাশ গোপন করার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জানুয়ারি সকালে আসামি জাহান আলী মনতাসুর নামে এক ব্যক্তিকে ফোন করে জানায় যে, তার বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে একটি লাশ রয়েছে। বিষয়টি জানার পরদিন সকালে নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের ট্যাংকির ভেতর থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করে। পরে এ ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা (নং-৪৭) দায়ের করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মামলাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ চারজন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানায়, গত ৭ মার্চ প্রথমে জাহান আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯ মার্চ সামিদুল ও সুজ্জাতকে এবং ১০ মার্চ রেন্টু ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা মিস মিতু বানুকে ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে নওগাঁ শহর থেকে বিল ভবানীপুর গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে গ্রামের মালা নামের এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত বাড়িতে জাহান আলী, রেন্টু, সুজ্জাত, সামিদুলসহ আরও ১-২ জন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল।

এ সময় টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে ভিকটিম মিতু বানু চিৎকার শুরু করেন। এতে মানসম্মানের ভয়ে আসামি রেন্টু তার মুখ ও গলা চেপে ধরে এবং অন্যরা হাত-পা ধরে রাখে। কিছুক্ষণ পর মিতু মারা গেলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে রেন্টুর পরামর্শে সবাই মিলে বিল ভবানীপুর গ্রামের মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে লাশ ফেলে গোপন করে রাখে।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি সামিদুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ যেকোনো ধরনের অপরাধের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে সর্বদা তৎপর রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে।