সাভারে দখলের আতঙ্কে সংখ্যালঘু পাড়ায় চরম উদ্বেগ, উচ্ছেদের আশঙ্কায় ৪২টি পরিবার
- আপডেট সময় : ০৬:১০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৬১ বার পড়া হয়েছে
সাভারের ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী পানপাড়া মহল্লা—এক সময়ের শান্ত এই আবাসিক এলাকা এখন ভয় আর অনিশ্চয়তায় আচ্ছন্ন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বসবাস করা অন্তত ৪২টি হিন্দু পরিবার হঠাৎ করেই নিজেদের ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি জমি দখলের চেষ্টা চালানোয় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও চাপের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের এই মহল্লায় বহুদিন ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস। তবে গত ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করে। সোহরাব উদ্দিন (ভুলু) নামের এক ব্যক্তি প্রায় ৯২ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে একাধিক পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, সরাসরি উচ্ছেদে ব্যর্থ হয়ে তিনি অন্তত ২৮ জন বাসিন্দার বিরুদ্ধে সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে মামলা করেন। পরে সরকারি জরিপে প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি তা মানতে অস্বীকৃতি জানান।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, তারা অধিকাংশই কয়েক প্রজন্ম ধরে একই জায়গায় বসবাস করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বিকাশ বলেন, “এই জমিই আমাদের সবকিছু। কিন্তু হঠাৎ করেই তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আমরা কোথায় যাব, বুঝতে পারছি না।”
শিখা রাজবংশী বলেন, “বিয়ের পর থেকেই এই বাড়িতে আছি। আমাদের পূর্বপুরুষরাও এখানে ছিলেন। এখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।”
আরেক বাসিন্দা চিত্ত রাজবংশী অভিযোগ করেন, “আমরা কাগজপত্র দেখতে চেয়েছি, কিন্তু কোনো দলিল দেখানো হয়নি। উল্টো আমাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে—‘কিসের কাগজ, আমিই কাগজ।’”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোহরাব উদ্দিন (ভুলু) দাবি করেছেন, জমিটি তার নিজস্ব এবং দীর্ঘদিন এলাকায় অনুপস্থিত থাকার সুযোগে কিছু লোক সেটি দখল করেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। সংখ্যালঘু হোক বা সাধারণ নাগরিক—সবাই আইনের সমান সুরক্ষা পাবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে। সাভার ট্যানারি ফাঁড়ির ইনচার্জ মহব্বত কবীর বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভুক্তভোগীদের জিডি করতে বলা হয়েছে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সাভার উপজেলায় কোনো ধরনের জবরদখল বরদাস্ত করা হবে না। আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। তিনি আরও বলেন, “এ দেশে সবাই নাগরিক—সংখ্যালঘু বলে আলাদা কিছু নেই। তবে যেহেতু বিষয়টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এদিকে প্রতিদিনই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে পানপাড়া মহল্লার বাসিন্দাদের। তারা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং নিরাপদ বসবাসের নিশ্চয়তা কামনা করছেন।




















