সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা নিবেদন
- আপডেট সময় : ১০:০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সাভারের নবীনগরে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তারা কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন এবং শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয়ে স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এসময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্মারক হিসেবে একটি পবিত্রতম স্থান।
এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান ও অনুপ্রাণিত মনে করছেন। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।
পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করে শহীদ হয়েছেন, তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। স্পিকার আরও বলেন, তিনিও মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অধীনে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করার সৌভাগ্য হয়েছিল।
এ সময় তিনি যুদ্ধে আহতও হয়েছিলেন। তিনি আরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন গত ১৭ বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী, ছাত্র, অভিভাবকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে, যারা মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়ে স্বৈরাচারী সরকার উৎখাতের সংগ্রামে শহীদ হয়েছেন।
বর্তমান জাতীয় সংসদের কার্যক্রম সম্পর্কে স্পিকার বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার-বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে কাজ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দু হবে জাতীয় সংসদ।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিরোধী দল সংসদে যথেষ্ট সুযোগ পাবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সবাই একসঙ্গে ছিল, তাই বিরোধী দলের প্রতি যথেষ্ট সহনশীলতা বজায় রাখা হবে। সংসদ পরিচালনায় নিজের ভূমিকা প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, “ক্রিকেট খেলায় যেমন আম্পায়ার নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তেমনি আমিও সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখব।” এসময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সার্জেন্ট-অ্যাট-আর্মসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


















