ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভারের আলোচিত মুসা বাহিনীর প্রধান গ্রেপ্তার সাভারের সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূর করতে প্রয়োজন পরিকল্পিত কর্মসূচি বাঘায় রুমিয়া হত্যা মামলায় দুই আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩ রাজশাহী জেলা যুবলীগ নেতারা আত্মগোপনে থেকেও পদ বাণিজ্যে মেতেছেন রাজশাহী মহানগরীতে বাসায় ডেকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ দুই আসামি গ্রেপ্তার, নগদ ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ও তিনটি স্ট্যাম্প জব্দ সাভার মডেল থানার ওসি মোঃ সাইফুল আলম ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো এ সরকারের সময়ে গুম-ক্রসফায়ার হয়নি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যাত্রা শুরু করল বাঘা উপজেলা উদ্যোক্তা ফোরাম লক্ষ্য সাইবার অপরাধ ও বেকারত্ব দূর করা সাভারে ফায়ার ফাইটিং সরঞ্জামের গোডাউনে চুরি, ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার রাজশাহীতে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

সাভারের আলোচিত মুসা বাহিনীর প্রধান গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:০৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
11

সাভারের হেমায়েতপুরের আলোচিত মুসা বাহিনীর প্রধান মোশাররফ হোসেন মুসাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে অপু রাড়িকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মুসা প্রধান আসামি। এরপর থেকে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন, আর পুলিশ তাকে ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বারিধারা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে ২০২৫ সালে হেমায়েতপুরের ব্যবসায়ী রমজানকে গুলি করে চাঁদা দাবির অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মুসা। বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে প্রায় এক ডজন অভিযোগ ও কয়েকটি মামলা রয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যার ঘটনায়ও তিনি একাধিক মামলার আসামি।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে মুসা চাঁদাবাজি, দখলবাণিজ্যসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনি সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন বলেও অভিযোগ আছে।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দলের নীতি-আদর্শবিরোধী কার্যকলাপ ও একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৯ জুলাই মোশাররফ হোসেন মুসাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি।

তবে বহিষ্কারের পর হেমায়েতপুর এলাকায় তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। অস্ত্রের মহড়া, দখলবাণিজ্য, গুলি করে চাঁদা আদায়, হামলা ও ভয়ভীতি দেখানোসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিলেন মুসা ও তার পোষা ক্যাডাররা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মুসা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে হেমায়েতপুরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ সব সময় আতঙ্কে থাকতেন। একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেও এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

হেমায়েতপুরের বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানা, ঝুটের ব্যবসা, মহাসড়ক ও পাড়া-মহল্লার সড়কের ফুটপাত, বিভিন্ন স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মুসা বাহিনী প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা হোসেন বলেন, পলাতক এই আসামিকে ধরতে পুলিশ নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বারিধারা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মুসার গ্রেপ্তারের খবরে হেমায়েতপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাণিজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সাভারের আলোচিত মুসা বাহিনীর প্রধান গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১১:০৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
11

সাভারের হেমায়েতপুরের আলোচিত মুসা বাহিনীর প্রধান মোশাররফ হোসেন মুসাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে অপু রাড়িকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মুসা প্রধান আসামি। এরপর থেকে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন, আর পুলিশ তাকে ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বারিধারা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে ২০২৫ সালে হেমায়েতপুরের ব্যবসায়ী রমজানকে গুলি করে চাঁদা দাবির অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মুসা। বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে প্রায় এক ডজন অভিযোগ ও কয়েকটি মামলা রয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যার ঘটনায়ও তিনি একাধিক মামলার আসামি।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে মুসা চাঁদাবাজি, দখলবাণিজ্যসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনি সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন বলেও অভিযোগ আছে।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দলের নীতি-আদর্শবিরোধী কার্যকলাপ ও একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৯ জুলাই মোশাররফ হোসেন মুসাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি।

তবে বহিষ্কারের পর হেমায়েতপুর এলাকায় তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। অস্ত্রের মহড়া, দখলবাণিজ্য, গুলি করে চাঁদা আদায়, হামলা ও ভয়ভীতি দেখানোসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিলেন মুসা ও তার পোষা ক্যাডাররা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মুসা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে হেমায়েতপুরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ সব সময় আতঙ্কে থাকতেন। একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেও এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

হেমায়েতপুরের বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানা, ঝুটের ব্যবসা, মহাসড়ক ও পাড়া-মহল্লার সড়কের ফুটপাত, বিভিন্ন স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মুসা বাহিনী প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা হোসেন বলেন, পলাতক এই আসামিকে ধরতে পুলিশ নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বারিধারা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মুসার গ্রেপ্তারের খবরে হেমায়েতপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাণিজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।