ঢাকা ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংগ্রামী মায়ের পাশে জেলা প্রশাসন, গণশুনানিতে মানবিক দৃষ্টান্ত সাভারের লিঙ্গ বৈচিত্র্য জনগোষ্ঠীর উদ্যোক্তা ও চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয় বাঘায় একই বিছানায় স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ নান্দাইলের গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে ডিজিটাল পরিকল্পনার উদ্যোগ সেবা সহজ করতে অনলাইনে গণশুনানির আয়োজন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনে’র প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চাওয়ার পরদিনই গোদাগাড়ীর শীর্ষ ব্যবসায়ী আজাদ আটক শাপলার হাসি বাঘায় পদ্মার শাখা নদীতে ডুবে যুবকের মৃত্যু মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশনের বিবৃতি বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আবেগঘন বার্তা, শৈশবের ছবি শেয়ার করলেন লামিনে ইয়ামাল

মুকুলে সোনালি স্বপ্ন রাজশাহীতে বাম্পার আম ফলনের আভাস

আবুল হাশেম রাজশাহী
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৫০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
387

বাংলাদেশে আমের মৌসুম সাধারণত শুরু হয় মাঘ মাসের শেষার্ধ থেকে এবং চলে ভাদ্র মাস পর্যন্ত। শীতের শেষে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলে, জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই সময়েই আমগাছে মুকুল আসে। বিশেষ করে মাঘের শেষ থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময় মুকুল আসার প্রধান মৌসুম। এবার অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আগাম মুকুল এসেছে রাজশাহী অঞ্চলে। রাজশাহী জেলার মোহনপুর, বাঘা, চারঘাট, দুর্গাপুর ও পবা উপজেলার বিভিন্ন আমবাগানে এখন সোনালি মুকুলের সমারোহ। মৌ মৌ সুবাসে ভরে উঠেছে চারপাশ। সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে ওঠা মুকুল কৃষকের মনে জাগাচ্ছে সোনালি স্বপ্ন। ধানের পরেই আমের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল এ অঞ্চলের কৃষকরা। তারা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার গাছে মুকুলের পরিমাণ বেশি। প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। যদি ঝড়, শিলাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি না হয়, তবে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে আমবাগানে চলছে ব্যাপক পরিচর্যা। কেউ গাছে সেচ দিচ্ছেন, কেউ রোগবালাই দমনে বালাইনাশক স্প্রে করছেন। চাষিরা জানান, ভালো মানের ফলন পেতে তিন মাসে ৬ থেকে ৭ বার পর্যন্ত ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়। বিশেষ করে ছত্রাক ও পোকার আক্রমণ থেকে মুকুল রক্ষা করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। অনুকূল আবহাওয়া থাকলেও সামনে ঝড়-বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়াতে পারলেই এ বছর ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র–এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। বর্তমানে যেরকম আবহাওয়া বিরাজ করছে, তা মুকুলের জন্য অনুকূল। এই অবস্থা বজায় থাকলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” রাজশাহী অঞ্চলে এ বছর প্রায় ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন। কৃষি অধিদপ্তর–এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ২৩টি জেলায় বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ হচ্ছে। তবে প্রধান উৎপাদন অঞ্চল তিনটি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে বলা হয় ‘আমের রাজধানী’। দেশের মোট আম উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে এখান থেকে। অন্যদিকে নওগাঁ জেলা অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদনে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলার আম সবচেয়ে আগে পাকে এবং এখান থেকেই ইউরোপের বাজারে মৌসুমের প্রথম আম রপ্তানি শুরু হয়। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত মুকুল ও নিয়মিত পরিচর্যার কারণে এবার ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন আমচাষিরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং চাহিদা অনুযায়ী যত্ন অব্যাহত থাকলে রাজশাহী অঞ্চলের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মুকুলে সোনালি স্বপ্ন রাজশাহীতে বাম্পার আম ফলনের আভাস

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
387

বাংলাদেশে আমের মৌসুম সাধারণত শুরু হয় মাঘ মাসের শেষার্ধ থেকে এবং চলে ভাদ্র মাস পর্যন্ত। শীতের শেষে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলে, জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই সময়েই আমগাছে মুকুল আসে। বিশেষ করে মাঘের শেষ থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময় মুকুল আসার প্রধান মৌসুম। এবার অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আগাম মুকুল এসেছে রাজশাহী অঞ্চলে। রাজশাহী জেলার মোহনপুর, বাঘা, চারঘাট, দুর্গাপুর ও পবা উপজেলার বিভিন্ন আমবাগানে এখন সোনালি মুকুলের সমারোহ। মৌ মৌ সুবাসে ভরে উঠেছে চারপাশ। সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে ওঠা মুকুল কৃষকের মনে জাগাচ্ছে সোনালি স্বপ্ন। ধানের পরেই আমের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল এ অঞ্চলের কৃষকরা। তারা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার গাছে মুকুলের পরিমাণ বেশি। প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। যদি ঝড়, শিলাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি না হয়, তবে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে আমবাগানে চলছে ব্যাপক পরিচর্যা। কেউ গাছে সেচ দিচ্ছেন, কেউ রোগবালাই দমনে বালাইনাশক স্প্রে করছেন। চাষিরা জানান, ভালো মানের ফলন পেতে তিন মাসে ৬ থেকে ৭ বার পর্যন্ত ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়। বিশেষ করে ছত্রাক ও পোকার আক্রমণ থেকে মুকুল রক্ষা করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। অনুকূল আবহাওয়া থাকলেও সামনে ঝড়-বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়াতে পারলেই এ বছর ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র–এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। বর্তমানে যেরকম আবহাওয়া বিরাজ করছে, তা মুকুলের জন্য অনুকূল। এই অবস্থা বজায় থাকলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” রাজশাহী অঞ্চলে এ বছর প্রায় ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন। কৃষি অধিদপ্তর–এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ২৩টি জেলায় বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ হচ্ছে। তবে প্রধান উৎপাদন অঞ্চল তিনটি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে বলা হয় ‘আমের রাজধানী’। দেশের মোট আম উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে এখান থেকে। অন্যদিকে নওগাঁ জেলা অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদনে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলার আম সবচেয়ে আগে পাকে এবং এখান থেকেই ইউরোপের বাজারে মৌসুমের প্রথম আম রপ্তানি শুরু হয়। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত মুকুল ও নিয়মিত পরিচর্যার কারণে এবার ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন আমচাষিরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং চাহিদা অনুযায়ী যত্ন অব্যাহত থাকলে রাজশাহী অঞ্চলের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।