উলিপুর ইসলামিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসায় জমকালো মৌসুমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ০৯:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ব্যতিক্রমধর্মী ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে মৌসুমী ফল উৎসব। শিক্ষার্থীদের দেশীয় ফলের সঙ্গে পরিচয়, পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইসলামী সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে এ আয়োজন করে উলিপুর ইসলামিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসা। শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এ উৎসবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীরা বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও উর্দু ভাষায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত পরিবেশন করে। পরে হামদ ও নাত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আপুয়ারখাতা আলিম মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলহাজ মাওলানা মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জুলফিকার আলী আনছারী, মাওলানা মো. মোসিউর রহমান, আলহাজ মাওলানা মো. মাহতাব উদ্দিনসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি দেশীয় ঐতিহ্য, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পুষ্টি সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি করে। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ, যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উলিপুর ইসলামিয়া ক্যাডেট দাখিল মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, “অভিভাবকরা সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে নিজেদের কর্মব্যস্ততায় নিয়োজিত থাকেন। আর আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের সুশিক্ষিত, আদর্শবান ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা চাই তারা সমাজের গর্বিত নাগরিক এবং ভবিষ্যতের যোগ্য নেতৃত্বে পরিণত হোক। সেই লক্ষ্যেই আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।” ফল উৎসবে শিক্ষার্থীরা আম, লিচু, কাঁঠাল, জাম, আনারস, তরমুজসহ বিভিন্ন দেশীয় মৌসুমী ফল প্রদর্শন করে। এছাড়া ফলভিত্তিক চিত্রাঙ্কন, গল্প বলা ও কুইজ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বড় কাঁঠাল এবং সর্বাধিক ২৮ প্রকার দেশীয় ফল প্রদর্শনকারী শিক্ষার্থীকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ সময় অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন মৌসুমী ফল বিতরণের মাধ্যমে দিনব্যাপী এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশ।



















