অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে নৌবাহিনী প্রধান।
- আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ১৬টি সংসদীয় আসনের অন্তর্গত ২৫টি উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছে।
এ প্রেক্ষাপটে বুধবার নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান কুতুবদিয়া ও সন্দ্বীপ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত নৌ কন্টিনজেন্টের সার্বিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুতুবদিয়া ও সন্দ্বীপ সফরের সময় নৌবাহিনী প্রধান অসামরিক প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়াও ডিজিএফআই, এনএসআই, র্যাব, কোস্ট গার্ড, আনসার এবং নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে নৌবাহিনীসহ সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান নৌবাহিনী প্রধান।
তিনি ভোটকেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত নৌ কন্টিনজেন্টের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিন্স এলাকায় নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক বোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতা, সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা রোধে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ জন্য ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকাগুলোতে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত টহল ও ফুট পেট্রোলিং চলছে। যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নৌবাহিনীর জাহাজ, হেলিকপ্টার, কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং সোয়াট টিম সর্বদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নৌবাহিনী দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

















