ঢাকা ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঘার নারায়নপুরে ইয়াবা-হিরোইনসহ যুবক গ্রেপ্তার, জামিনে বের হয়েই ফের মাদক ব্যবসা সাভারের ভিক্ষুকের জমানো দেড় লাখ টাকা ছিনতাই করে সাভার ও আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামিদের দেখামাত্র গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন সালাউদ্দিন বাবু এমপি সাভারের পুলিশ ক্যাম্প থেকে আসামি পলানোর ঘটনায় দুই জন পুলিশকে ক্লোজড ব্র্যাকের উদ্যোগে বাঘায় ১৫ জন স্বপ্নসারথি কিশোরীকে প্রশিক্ষণ শেষে মুরগির বাচ্চা ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান চকরাজাপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী জগলু শিকদারের মাজার জিয়ারত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত উলিপুরে ফুল শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ৪৯ শিক্ষার্থী পেল সনদ ও নগদ অর্থ রাজশাহীতে ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ বাঘায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

সাভারের ভিক্ষুকের জমানো দেড় লাখ টাকা ছিনতাই করে

আনোয়ার হোসেন আন্নু বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:২৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
24

আমি না খেয়ে প্রতিদিন ভিক্ষা করে এক দোকানে টাকা জমাইছি। প্রতিদিন ভিক্ষা করে যে টাকা পাইছি। তাই এক দোকান মালিকের কাছে দিচ্ছি। এরকম করে তিন বছরে দেড় লাখ টাকা জমাছি। সেই টাকা বাড়িতে আনার পরই নেশাগ্রস্ত এক ছেলে ভাত খাওয়ার কথা বলে আমাকে ডেকে দেড় লাখ টাকা লুট করেছে’ -এভাবেই সর্বস্ব হারিয়ে  কান্না জড়িত কন্ঠে বলছিলেন বৃদ্ধ ভিক্ষুক নূর আলম।

সাভার পৌর এলাকার তালবাগ মহল্লায় মাহবুরে মালিকানাধীন ভাড়া বাড়িতে বৃদ্ধ ভিক্ষুকের সঙ্গে আলাপ হয় প্রতিবেদকের। ভিক্ষুক নূর আলম জানান, ‘আমি আট বছর আগে স্ত্রী ও এক কন্যা এবং এক ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি বরিশাল থেকে সাভারে এসেছি। সেসময় সাভারে এসে সবজির ব্যবসায় শুরু করি।

তখন পরিবার নিয়ে সুখের কাটছিল দিন। কিন্তু তিন বছর আগে হঠাৎ স্ট্রোক করে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছিলাম। তখন আমি আর কাজ করতে পারছিলাম না এবং উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়। তাই আমার স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে দিন দিন বোঝা হয়ে ওঠেছিলাম।

সেসময় অসুস্থ্য অবস্থায় ওই বাসা থেকে স্ত্রী আমাকে বের করে দেন’ বলে জানান তিনি। এসময় নূর আলম এক বুক আর্তনাদ নিয়ে বললেন, সে একা হয়ে পড়লে আর কোনও দিশা না পেয়ে ভিক্ষা করা শুরু করেন। তখন এক মুদি দোকান মালিক লিটনের সঙ্গে পরিচয় হয় নূর আলমের। প্রতিদিনের ভিক্ষার টাকা জমা দিয়ে হিসেব রাখতেন তিনি ।

এভাবে তিন বছর টাকা জমায়। কিন্তু কোরবানির ঈদের পরে জমানো টাকা দিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরতে চায় নূর আলম। সেকারণে মুদি দোকানি লিটনের কাছে টাকা চান।  গত মাসে ৩১ মে দোকান মালিক নূর আলমকে এক লাখ ৩৮ হাজার টাকা ফিরিয়ে দেন লিটন।

পরে সেই টাকা নিয়ে ভাড়া বাড়িতে ফিরেন নূর আলম। তবে নেশাগ্রস্ত শামীম নামে এক যুবক নূর আলমকে ভাত খাওয়ানের প্রলোভন দেখিয়ে সড়কে ডেকে নেন। পরে নূর আলমের জমানো মোট দেড় লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যান ওই যুবক। এরপরে ভুক্তভোগী ওই ভিক্ষুক সাভার মডেল থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

দোকান মালিক লিটন জানান, নূর আলম প্রতিদিন ভিক্ষা করে যে টাকা পেত সেই টাকা আমার কাছে জমিয়েছিল। হঠাৎ কোরবানি ঈদের পরে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য টাকা ফেরত চায়। পরে আমার কাছে জমানো এক লাখ ১৮ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছিলাম। এরপরে সে বাসায় চলে যান।

কিন্তু তাকে এক যুবক ভাত খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে টাকা লুট করে নিয়েছে বলে জানান তিনি। প্রত্যক্ষদর্শী নাজমা বেগম জানান,‘আমাদের পাশের কক্ষেই থাকে ভিক্ষুক নূর আলম। সে তিন বছর ভিক্ষা করে টাকা জমিয়ে বাসায় নিয়ে এসেছিল।

কিন্তু রাস্তা দিয়ে আসার সময় অনেকেই তার লুঙ্গিতে করে টাকা নিয়ে আসার দৃশ্য দেখে। সেসময়  নেশাগ্রস্ত শামীম নামে এক যুবক টাকা নিয়ে আসতে দেখে নূর আলমকে। পরে ওই যুবক নূর আলমকে ভাত খাওয়ার জন্য ডেকে নেন। এরপর সে ভাত খেতে গেলে সব টাকা লুট করে নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভিক্ষুকের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক।

কিন্তু অভিযুক্তের বাবা শাহ আলম  এক লাখ টাকা দিতে রাজি হয়েছে। তবে সে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে দিয়ে পরিশোধ করতে চেয়ে ছিলেন। কিন্তু ওই ভিক্ষুক এভাবে টাকা নিতে রাজি হয়নি। পরে তাকে মামলা করতে বলা হয়েছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সাভারের ভিক্ষুকের জমানো দেড় লাখ টাকা ছিনতাই করে

আপডেট সময় : ০২:২৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
24

আমি না খেয়ে প্রতিদিন ভিক্ষা করে এক দোকানে টাকা জমাইছি। প্রতিদিন ভিক্ষা করে যে টাকা পাইছি। তাই এক দোকান মালিকের কাছে দিচ্ছি। এরকম করে তিন বছরে দেড় লাখ টাকা জমাছি। সেই টাকা বাড়িতে আনার পরই নেশাগ্রস্ত এক ছেলে ভাত খাওয়ার কথা বলে আমাকে ডেকে দেড় লাখ টাকা লুট করেছে’ -এভাবেই সর্বস্ব হারিয়ে  কান্না জড়িত কন্ঠে বলছিলেন বৃদ্ধ ভিক্ষুক নূর আলম।

সাভার পৌর এলাকার তালবাগ মহল্লায় মাহবুরে মালিকানাধীন ভাড়া বাড়িতে বৃদ্ধ ভিক্ষুকের সঙ্গে আলাপ হয় প্রতিবেদকের। ভিক্ষুক নূর আলম জানান, ‘আমি আট বছর আগে স্ত্রী ও এক কন্যা এবং এক ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি বরিশাল থেকে সাভারে এসেছি। সেসময় সাভারে এসে সবজির ব্যবসায় শুরু করি।

তখন পরিবার নিয়ে সুখের কাটছিল দিন। কিন্তু তিন বছর আগে হঠাৎ স্ট্রোক করে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছিলাম। তখন আমি আর কাজ করতে পারছিলাম না এবং উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়। তাই আমার স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে দিন দিন বোঝা হয়ে ওঠেছিলাম।

সেসময় অসুস্থ্য অবস্থায় ওই বাসা থেকে স্ত্রী আমাকে বের করে দেন’ বলে জানান তিনি। এসময় নূর আলম এক বুক আর্তনাদ নিয়ে বললেন, সে একা হয়ে পড়লে আর কোনও দিশা না পেয়ে ভিক্ষা করা শুরু করেন। তখন এক মুদি দোকান মালিক লিটনের সঙ্গে পরিচয় হয় নূর আলমের। প্রতিদিনের ভিক্ষার টাকা জমা দিয়ে হিসেব রাখতেন তিনি ।

এভাবে তিন বছর টাকা জমায়। কিন্তু কোরবানির ঈদের পরে জমানো টাকা দিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরতে চায় নূর আলম। সেকারণে মুদি দোকানি লিটনের কাছে টাকা চান।  গত মাসে ৩১ মে দোকান মালিক নূর আলমকে এক লাখ ৩৮ হাজার টাকা ফিরিয়ে দেন লিটন।

পরে সেই টাকা নিয়ে ভাড়া বাড়িতে ফিরেন নূর আলম। তবে নেশাগ্রস্ত শামীম নামে এক যুবক নূর আলমকে ভাত খাওয়ানের প্রলোভন দেখিয়ে সড়কে ডেকে নেন। পরে নূর আলমের জমানো মোট দেড় লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যান ওই যুবক। এরপরে ভুক্তভোগী ওই ভিক্ষুক সাভার মডেল থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

দোকান মালিক লিটন জানান, নূর আলম প্রতিদিন ভিক্ষা করে যে টাকা পেত সেই টাকা আমার কাছে জমিয়েছিল। হঠাৎ কোরবানি ঈদের পরে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য টাকা ফেরত চায়। পরে আমার কাছে জমানো এক লাখ ১৮ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছিলাম। এরপরে সে বাসায় চলে যান।

কিন্তু তাকে এক যুবক ভাত খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে টাকা লুট করে নিয়েছে বলে জানান তিনি। প্রত্যক্ষদর্শী নাজমা বেগম জানান,‘আমাদের পাশের কক্ষেই থাকে ভিক্ষুক নূর আলম। সে তিন বছর ভিক্ষা করে টাকা জমিয়ে বাসায় নিয়ে এসেছিল।

কিন্তু রাস্তা দিয়ে আসার সময় অনেকেই তার লুঙ্গিতে করে টাকা নিয়ে আসার দৃশ্য দেখে। সেসময়  নেশাগ্রস্ত শামীম নামে এক যুবক টাকা নিয়ে আসতে দেখে নূর আলমকে। পরে ওই যুবক নূর আলমকে ভাত খাওয়ার জন্য ডেকে নেন। এরপর সে ভাত খেতে গেলে সব টাকা লুট করে নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভিক্ষুকের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক।

কিন্তু অভিযুক্তের বাবা শাহ আলম  এক লাখ টাকা দিতে রাজি হয়েছে। তবে সে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে দিয়ে পরিশোধ করতে চেয়ে ছিলেন। কিন্তু ওই ভিক্ষুক এভাবে টাকা নিতে রাজি হয়নি। পরে তাকে মামলা করতে বলা হয়েছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।