ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত পদ্মাচরে কাকন বাহিনীর নেতৃত্বে বদল নতুন মাঠ নেতা মিলন চৌধুরী ও বক্কার, আত্মগোপনে ইঞ্জিনিয়ার কাকন গফরগাঁওয়ে জামালপুর এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন সাময়িকভাবে বন্ধ রেল চলাচল বাঘায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি সহ ৪ জন আটক, যৌতুক আইনে সাজা ভোগ করছিলেন একজন উলিপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু কুয়াকাটায় ১ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক বাগমারার গোয়ালকান্দিতে মাদকের বিস্তার প্রশাসনের নজরদারি দুর্বলতার অভিযোগ চকরাজাপুর ইউনিয়নে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন, উপস্থিত ছিলেন বিএনপি ও যুবদল নেতৃবৃন্দ উলিপুরে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন কুয়াকাটা পৌরসভার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

পদ্মাচরে কাকন বাহিনীর নেতৃত্বে বদল নতুন মাঠ নেতা মিলন চৌধুরী ও বক্কার, আত্মগোপনে ইঞ্জিনিয়ার কাকন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
17

রাজশাহী, নাটোর, কুষ্টিয়া ও পাবনার বিস্তীর্ণ পদ্মাচরজুড়ে ত্রাস সৃষ্টিকারী কাকন বাহিনীর মাঠ পর্যায়ের নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। বাহিনীর প্রধান ইঞ্জিনিয়ার কাকন আত্মগোপনে যাওয়ায় তার অবর্তমানে মাঠের দায়িত্ব এখন পালন করছেন ঈশ্বরদী পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ চৌধুরী ওরফে মিলন চৌধুরী এবং আবু বক্কার। দেশের শীর্ষ পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে কাকন বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন ‘অপারেশন ফার্স্টলাইট’ নামে বিশেষ অভিযান শুরু করে। এরপর থেকে ইঞ্জিনিয়ার কাকন আরও বেশি আত্মগোপনে চলে যান। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দুর্গম চর উদয়নগরে তার অবস্থানের গুঞ্জন রয়েছে। চরটি দুই দেশের জন্যই দুর্গম ও যাতায়াতহীন হওয়ায় আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা। গণমাধ্যমে ছবিসহ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় কাকনের পক্ষে সরাসরি মাঠে নেতৃত্ব দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সে কারণেই বাহিনীর দায়িত্ব মিলন চৌধুরী ও বক্কারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। পদ্মার চরাঞ্চল দুর্গম হওয়ায় এখানে কাকন বাহিনী, মন্ডল বাহিনী, বেলাল বাহিনী, টুকু বাহিনী, সাঈদ বাহিনী, লালচাঁদ বাহিনী, বান্নাহ বাহিনী, সুখচাঁদ বাহিনী, কালু বাহিনী, নাহারুল বাহিনীসহ একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয়। এদের মধ্যে কাকন বাহিনী সবচেয়ে শক্তিশালী বলে পরিচিত। বালুমহল নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কাকন বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা করতে কেউ সাহস পায়নি। সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় মামলা হওয়ার পর চরজুড়ে হামলা-পাল্টা হামলা বেড়েছে। গত বছর ২৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের দুর্গম চরে কাকন ও মন্ডল বাহিনীর গোলাগুলিতে মন্ডল গ্রুপের আমান মন্ডল ও নাজমুল মন্ডল নিহত হন। ওই ঘটনায় কাকন বাহিনীর সদস্য লিটনও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সর্বশেষ ৯ জুন বেলাল বাহিনী ও কাকন বাহিনীর সংঘর্ষে বেলাল বাহিনীর আজিজুল হক ঝড়ু ওরফে ঝড়ু মস্তান নিহত হন। ঝড়ু মস্তানের স্থলেই এখন আবু বক্কারকে বসানো হয়েছে বলে জানা গেছে। চরাঞ্চলে ২০ বছর আগেও পান্না বাহিনী ও লালচাঁন বাহিনীর দাপট ছিল। ভাগ না দিলে ফসল ঘরে তোলা যেত না। ওই সময় তাদের হাতে ৪১ জন খুন হয়। ২০০৫ সালে র্যাবের ক্রসফায়ারে পান্না নিহত হন। পান্নার ওস্তাদ ছিলেন এই কাকন। ২০০৭ সালে কাকন সৌদি আরব চলে যান, কয়েক বছর পর ফিরে এসে বালুমহল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাহিনী গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ। অপারেশন ফার্স্টলাইটের পর বাহিনীগুলো সাময়িক শান্ত থাকলেও আবারও গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছে। ফলে চার জেলার নদীপারের বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি বলেন, “মিলন চৌধুরী ও বক্কার বাহিনী বিষয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে চরাঞ্চলে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেলেই তারা আরও গভীর চরে ঢুকে পড়ে, ফলে গ্রেপ্তার কঠিন হয়ে পড়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পদ্মাচরে কাকন বাহিনীর নেতৃত্বে বদল নতুন মাঠ নেতা মিলন চৌধুরী ও বক্কার, আত্মগোপনে ইঞ্জিনিয়ার কাকন

আপডেট সময় : ১২:০৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
17

রাজশাহী, নাটোর, কুষ্টিয়া ও পাবনার বিস্তীর্ণ পদ্মাচরজুড়ে ত্রাস সৃষ্টিকারী কাকন বাহিনীর মাঠ পর্যায়ের নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। বাহিনীর প্রধান ইঞ্জিনিয়ার কাকন আত্মগোপনে যাওয়ায় তার অবর্তমানে মাঠের দায়িত্ব এখন পালন করছেন ঈশ্বরদী পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ চৌধুরী ওরফে মিলন চৌধুরী এবং আবু বক্কার। দেশের শীর্ষ পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে কাকন বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন ‘অপারেশন ফার্স্টলাইট’ নামে বিশেষ অভিযান শুরু করে। এরপর থেকে ইঞ্জিনিয়ার কাকন আরও বেশি আত্মগোপনে চলে যান। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দুর্গম চর উদয়নগরে তার অবস্থানের গুঞ্জন রয়েছে। চরটি দুই দেশের জন্যই দুর্গম ও যাতায়াতহীন হওয়ায় আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা। গণমাধ্যমে ছবিসহ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় কাকনের পক্ষে সরাসরি মাঠে নেতৃত্ব দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সে কারণেই বাহিনীর দায়িত্ব মিলন চৌধুরী ও বক্কারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। পদ্মার চরাঞ্চল দুর্গম হওয়ায় এখানে কাকন বাহিনী, মন্ডল বাহিনী, বেলাল বাহিনী, টুকু বাহিনী, সাঈদ বাহিনী, লালচাঁদ বাহিনী, বান্নাহ বাহিনী, সুখচাঁদ বাহিনী, কালু বাহিনী, নাহারুল বাহিনীসহ একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয়। এদের মধ্যে কাকন বাহিনী সবচেয়ে শক্তিশালী বলে পরিচিত। বালুমহল নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কাকন বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা করতে কেউ সাহস পায়নি। সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় মামলা হওয়ার পর চরজুড়ে হামলা-পাল্টা হামলা বেড়েছে। গত বছর ২৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের দুর্গম চরে কাকন ও মন্ডল বাহিনীর গোলাগুলিতে মন্ডল গ্রুপের আমান মন্ডল ও নাজমুল মন্ডল নিহত হন। ওই ঘটনায় কাকন বাহিনীর সদস্য লিটনও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সর্বশেষ ৯ জুন বেলাল বাহিনী ও কাকন বাহিনীর সংঘর্ষে বেলাল বাহিনীর আজিজুল হক ঝড়ু ওরফে ঝড়ু মস্তান নিহত হন। ঝড়ু মস্তানের স্থলেই এখন আবু বক্কারকে বসানো হয়েছে বলে জানা গেছে। চরাঞ্চলে ২০ বছর আগেও পান্না বাহিনী ও লালচাঁন বাহিনীর দাপট ছিল। ভাগ না দিলে ফসল ঘরে তোলা যেত না। ওই সময় তাদের হাতে ৪১ জন খুন হয়। ২০০৫ সালে র্যাবের ক্রসফায়ারে পান্না নিহত হন। পান্নার ওস্তাদ ছিলেন এই কাকন। ২০০৭ সালে কাকন সৌদি আরব চলে যান, কয়েক বছর পর ফিরে এসে বালুমহল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাহিনী গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ। অপারেশন ফার্স্টলাইটের পর বাহিনীগুলো সাময়িক শান্ত থাকলেও আবারও গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছে। ফলে চার জেলার নদীপারের বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি বলেন, “মিলন চৌধুরী ও বক্কার বাহিনী বিষয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে চরাঞ্চলে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেলেই তারা আরও গভীর চরে ঢুকে পড়ে, ফলে গ্রেপ্তার কঠিন হয়ে পড়ে।