ইজারাদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সমঝোতার মাধ্যমে সাভারে মুরগি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে
- আপডেট সময় : ০৬:০৭:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
অবশেষে তিনদিন পর এক সমঝোতার মাধ্যমে সাভারের মুরগি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন। আজ (রোববার) সকাল থেকেই বাজারগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই মুরগি বিক্রি হচ্ছে। এর আগে শনিবার রাতে সাভার মডেল থানায় পুলিশের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মুরগির ব্যবসায়ী সমিতি ও ইজারাদারের মধ্যে সমঝোতা চুক্তিতে ধর্মঘটের অবসান হয়।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী, এখন থেকে মুরগিবাহী প্রতিটি গাড়ি থেকে ২০০ টাকা হারে নির্ধারণ হয়ে। পরে ব্যবসায়ীরা আজ (রবিবার) থেকে তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সম্প্রতি সাভার পৌরসভার রেডিও কলোনি হতে ব্যাংকডাউন পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশে মালামাল বহনকারী পরিবহন লোড আনলোডের জন্য কুলি বিট ইজারা দেওয়া হয়।
কিন্তু ইজারাদারের লোকজন মুরগি নামানো এবং উঠানোর সময় ‘কুলি বিট’ হিসেবে নির্দিষ্ট অংকের টাকা দাবি করে আসছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা নিজেরাই শ্রমিক দিয়ে মালামাল ওঠানামা করালেও টাকা দিতে হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে অনেক সময় গাড়ি আটকে রাখা এবং চালকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটছে।
এরপর অতিষ্ঠ হয়ে বৃহস্পতিবার থেকে মুরগির ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেয়। কয়েক দফা আলোচনা, অভিযোগ, পাল্টা-অভিযোগের পর অবশেষে শনিবার রাতে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলীর কক্ষে বসে ইজারাদার ও মুরগি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমঝোতা হয়। বৃহত্তর সাভার-আশুলিয়া মুরগি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী রবিবার সকালে জানান, রাতে থানায় বসে আমাদের উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে।
আগে মুরগি প্রতি এক টাকা করে নির্ধারণ করা ছিল। এখন মুরগির প্রতি ট্রাক ২০০ টাকা নির্ধারণ করে সমঝোতা হলে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেই। এই নির্ধারিত হার আমাদের ব্যবসার ওপর চাপ কমাবে এবং বাজারে মুরগির দাম স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, কুলি বিট ইজারাদার আলমগীর হোসেন মোল্লা জানান, মুরগির ব্যবসায়ীদের সাথে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল।
আমরা শান্তি ও শৃঙ্খলার পক্ষে। থানার মধ্যস্থতায় সমঝোতার চুক্তিতে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা তা মেনে চলব। প্রসঙ্গত; সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের মুরগির বাজারে ‘কুলি বিট’ বা কুলি খরচের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধর্মঘট শুরু করে মুরগি ব্যবসায়ীরা। তাদের ধর্মঘটের কারণে বাজারগুলোতে মুরগী সরবরাহ বন্ধ থাকে। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের।



















