কুড়িগ্রামে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু
- আপডেট সময় : ০৫:৫৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর শাসনামলে খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছিল। খালের পানি ব্যবহার করে কৃষকরা চাষাবাদ করতেন, খালে মাছ চাষ হতো এবং এর মাধ্যমে মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিল। রবিবার (১০ মে) দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের আরাজী পলাশবাড়ী এলাকায় দাশেরহাট ছড়া থেকে এসিল্যান্ড সংযোগ খাল পর্যন্ত পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে খাল খনন কাজের সূচনা করেন মন্ত্রী। পরে তিনি খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণও করেন। ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খাল খনন ও পরিচর্যা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বিএনপির নির্বাচনী কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল পুনঃখননের অঙ্গীকার করেছিলেন।
সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই কুড়িগ্রামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী পাঁচ বছরে দেশের ৬৩টি জেলায় মোট ৭ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। চলতি বছরেই ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ২০ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ কর্মসূচি কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও জলাধার সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় আরাজী পলাশবাড়ী মৌজার দাশেরহাট ছড়া থেকে এসিল্যান্ড সংযোগ খাল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে।
খাল পুনঃখনন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন কাজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ধাপে কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী, সদর, রাজারহাট, উলিপুর ও রৌমারী উপজেলায় মোট ৫৯ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাধার সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ-এর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু ও অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিএম কুদরত এ খুদা, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান এবং প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিমসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রবিবার সকালে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাটের নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে কুড়িগ্রামে পৌঁছান। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এরপর তিনি কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত স্থান নালিয়ারদোলা পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে সড়কপথে হলোখানা ইউনিয়নের আরাজী পলাশবাড়ী এলাকায় গিয়ে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।



















