ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংগ্রামী মায়ের পাশে জেলা প্রশাসন, গণশুনানিতে মানবিক দৃষ্টান্ত সাভারের লিঙ্গ বৈচিত্র্য জনগোষ্ঠীর উদ্যোক্তা ও চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয় বাঘায় একই বিছানায় স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ নান্দাইলের গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে ডিজিটাল পরিকল্পনার উদ্যোগ সেবা সহজ করতে অনলাইনে গণশুনানির আয়োজন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনে’র প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চাওয়ার পরদিনই গোদাগাড়ীর শীর্ষ ব্যবসায়ী আজাদ আটক শাপলার হাসি বাঘায় পদ্মার শাখা নদীতে ডুবে যুবকের মৃত্যু মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশনের বিবৃতি বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আবেগঘন বার্তা, শৈশবের ছবি শেয়ার করলেন লামিনে ইয়ামাল

চিলমারীতে বাড়ির পাশে বাঁশঝোপে মিলল নিখোঁজ শিশু আয়শার মরদেহ

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:০৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ২০১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
234

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা জুড়ে নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের গভীর ছায়া। উপজেলার মাচাবান্ধা চৌরাস্তার মোড় সংলগ্ন সাহাপাড়া এলাকায় দুই বছর বয়সী শিশু আয়শা খাতুনের নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্তব্ধ হয়ে পড়েছ মানুষ জন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার বাসিন্দা মোঃ আলমগীর হোসেনের কন্যা আয়শা খাতুন গত শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানানো হলে সর্বস্তরের মানুষ অনুসন্ধানে অংশ নেয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের প্রায় সারাদিন পর, গভীর রাতে বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝোপ থেকে আয়শার নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের দাবি, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তার একটি চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে—যা এই ঘটনাকে আরও ভয়াবহ ও পাশবিক করে তুলেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে, একটি নিষ্পাপ শিশুর ওপর এমন বর্বরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি সমাজের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এ বিষয়ে চিলমারী মডেল থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, ঘটনাটি পুলিশ আমলে নেওয়া হয়েছে।

তদন্ত সাপেক্ষে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবারিক নজরদারি জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।

নিষ্পাপ আয়শার এই করুণ মৃত্যুতে শোকাহত পরিবার, এলাকাবাসী এবং সমগ্র দেশ আজ একটাই দাবি জানাচ্ছে—দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চিলমারীতে বাড়ির পাশে বাঁশঝোপে মিলল নিখোঁজ শিশু আয়শার মরদেহ

আপডেট সময় : ০৫:০৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
234

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা জুড়ে নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের গভীর ছায়া। উপজেলার মাচাবান্ধা চৌরাস্তার মোড় সংলগ্ন সাহাপাড়া এলাকায় দুই বছর বয়সী শিশু আয়শা খাতুনের নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্তব্ধ হয়ে পড়েছ মানুষ জন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার বাসিন্দা মোঃ আলমগীর হোসেনের কন্যা আয়শা খাতুন গত শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানানো হলে সর্বস্তরের মানুষ অনুসন্ধানে অংশ নেয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের প্রায় সারাদিন পর, গভীর রাতে বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝোপ থেকে আয়শার নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের দাবি, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তার একটি চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে—যা এই ঘটনাকে আরও ভয়াবহ ও পাশবিক করে তুলেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে, একটি নিষ্পাপ শিশুর ওপর এমন বর্বরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি সমাজের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এ বিষয়ে চিলমারী মডেল থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, ঘটনাটি পুলিশ আমলে নেওয়া হয়েছে।

তদন্ত সাপেক্ষে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবারিক নজরদারি জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।

নিষ্পাপ আয়শার এই করুণ মৃত্যুতে শোকাহত পরিবার, এলাকাবাসী এবং সমগ্র দেশ আজ একটাই দাবি জানাচ্ছে—দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।