সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিককে পিটিয়ে থানায় নেওয়ার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০১:২৩:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিকের ওপর হামলা ও তাকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা শাহিন শিকদার ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে উপজেলা শহরে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপ ও পুলিশের সহযোগিতায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাইদুল ইসলামকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী মাইদুল ইসলাম জানান, তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘তালাস বিডি’, ‘হামার কুড়িগ্রাম’ এবং দৈনিক ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। কয়েকদিন আগে মাদকসহ আটক একটি মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করেন তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাহিন শিকদার ও তার অনুসারীরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে মারধর করে দোকান থেকে তুলে থানায় নিয়ে যায় এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতায় তিনি মুক্তি পান।
মাইদুল ইসলাম বলেন, “আমি সত্য ঘটনা প্রকাশ করেছি। কিন্তু এর জন্য আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে শাহিন শিকদারের বাড়ির সামনে এক ব্যক্তিকে মাদকসহ আটক করা হলেও পরে তার হস্তক্ষেপে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়—এমন অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহিন শিকদার। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি কাউকে মারধর করিনি, শুধু থানায় নেওয়া হয়েছিল।”
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন-এর আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রিগান বলেন, “সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে আইনগত পথে সমাধান করা যেতো। কিন্তু একজন সাংবাদিককে পিটিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মণ্ডল জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের বহিষ্কৃত নেতা এবং তার দায় দল নেবে না।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, “ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। কেউ মামলা করেনি।”
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।



















