ঢাকা ০৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১২ বছর আগে রানা প্লাজা দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন নাসিমা, কিন্তু এবার পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে প্রাণ হারালেন তিনি অবৈধভাবে জ্বালানি মজুতের তথ্য দিলে পাওয়া যাবে পুরস্কার। নওগাঁর সাপাহারে নাবালককে প্রলোভনে ফেলে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক গ্রেফতার ৩১ বার তোপধ্বনিতে বাঘায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হোসেনপুরে পাপমুক্তির আশায় ব্রহ্মপুত্র নদে অষ্টমী স্নানে লাখো পূণ্যার্থীর ঢল ‎ সাভার ও আশুলিয়া ও ধামরাই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে  উলিপুরে গণহত্যা দিবস পালন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, ইতিহাস স্মরণে আলোচনা সভা বাঘায় জ্বালানি সংকট  মুহুর্তে পাম্পে তালা ডিপোতে রাতের আঁধারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে মিজান চৌধুরী আগামী ৭৫ দিনের মধ্যে পরিবর্তনশীল উলিপুর গড়ার প্রতিশ্রুতি ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী

১২ বছর আগে রানা প্লাজা দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন নাসিমা, কিন্তু এবার পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে প্রাণ হারালেন তিনি

আনোয়ার হোসেন আন্নু বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৩২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
32

জীবন কার কোথায় থমকে যাবে, কেউ জানে না। জানত না নাসিমা বেগমও। তাই তো ১২ বছর আগে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফিরলেও গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন তার। নাসিমা বেগম ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফেরা একটি আলোচিত নাম। ঘটনার তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন তিনি। তবে এবার আর ভাগ্য সহায় হলো না নাসিমা বেগমের। টানা ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে জীবন নিয়ে বেঁচে ফিরলেও এবারের দুর্ঘটনার ছয় ঘণ্টা পরই পদ্মা থেকে উদ্ধার হয় নাসিমার নিথর দেহ। সৃষ্টিকর্তার ইশারায় পদ্মায় ডুবে হেরে গেল জীবিকার যুদ্ধের ‘নিঃসঙ্গ শেরপা’ নাসিমা।

দুই স্বজনসহ নাসিমার (৪০) মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে বিরাজ করছে শোকের ছায়া। জানা গেছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী নাসিমা বেগম। জীবিকার সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। তবে দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পরও কোনো চাকরি পাননি তিনি। পরে ঈদ উপলক্ষ্যে তিনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান।

 

ঈদ শেষে গত ২৫ মার্চ বুধবার বিকেলে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় তারা সবাই ডুবে যান। কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

এদিকে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহতদের লাশ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়িটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে এতে তেমন গুরুতর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। গতকাল শুক্রবার জুমার পর পারিবারিক কবরে তাদের দাফন করা হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন নাসিমা বেগম। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তিনি তিন দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হন। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও ঢাকা গিয়েছিলেন। সেটাই যেন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।

পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছি। এদিকে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন বলেন, নিহত নাসিমার বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

১২ বছর আগে রানা প্লাজা দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন নাসিমা, কিন্তু এবার পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে প্রাণ হারালেন তিনি

আপডেট সময় : ০৮:৩২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
32

জীবন কার কোথায় থমকে যাবে, কেউ জানে না। জানত না নাসিমা বেগমও। তাই তো ১২ বছর আগে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফিরলেও গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন তার। নাসিমা বেগম ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফেরা একটি আলোচিত নাম। ঘটনার তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন তিনি। তবে এবার আর ভাগ্য সহায় হলো না নাসিমা বেগমের। টানা ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে জীবন নিয়ে বেঁচে ফিরলেও এবারের দুর্ঘটনার ছয় ঘণ্টা পরই পদ্মা থেকে উদ্ধার হয় নাসিমার নিথর দেহ। সৃষ্টিকর্তার ইশারায় পদ্মায় ডুবে হেরে গেল জীবিকার যুদ্ধের ‘নিঃসঙ্গ শেরপা’ নাসিমা।

দুই স্বজনসহ নাসিমার (৪০) মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে বিরাজ করছে শোকের ছায়া। জানা গেছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী নাসিমা বেগম। জীবিকার সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। তবে দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পরও কোনো চাকরি পাননি তিনি। পরে ঈদ উপলক্ষ্যে তিনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান।

 

ঈদ শেষে গত ২৫ মার্চ বুধবার বিকেলে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় তারা সবাই ডুবে যান। কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

এদিকে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহতদের লাশ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়িটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে এতে তেমন গুরুতর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। গতকাল শুক্রবার জুমার পর পারিবারিক কবরে তাদের দাফন করা হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন নাসিমা বেগম। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তিনি তিন দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হন। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও ঢাকা গিয়েছিলেন। সেটাই যেন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।

পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছি। এদিকে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন বলেন, নিহত নাসিমার বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।