ঢাকা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঘায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর পালিত সাভার থানা থেকে লুট হওয়া ৩৭ রাউন্ড গুলিসহ এক যুবক গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ সাভারের জাল সাক্ষরে মন্দিরের চাল আত্মাসাৎ ও হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ধামরাইয়ে ৪ বাড়ির সামনে কাফনের কাপড় আতঙ্কে এলাকাবাসী রয়েছেন নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ এর উদ্বোধন আদালতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ পরীমনির, মামলায় জামিন সাংবাদিক ও মালিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি বেতন বৃদ্ধি ঘিরে শ্রমিক অসন্তোষ এড়াতে চট্টগ্রামে সমন্বয় সভা বাঘার তেঁতুলিয়া বাজারে নকল ঔষধ তৈরির কারখানায় অভিযান আড়ানী রেলব্রিজ (KPI) পুলিশ প্রশাসনের বাৎসরিক পরিদর্শন

১২ বছর আগে রানা প্লাজা দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন নাসিমা, কিন্তু এবার পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে প্রাণ হারালেন তিনি

আনোয়ার হোসেন আন্নু বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৩২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ৪১৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
383

জীবন কার কোথায় থমকে যাবে, কেউ জানে না। জানত না নাসিমা বেগমও। তাই তো ১২ বছর আগে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফিরলেও গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন তার। নাসিমা বেগম ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফেরা একটি আলোচিত নাম। ঘটনার তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন তিনি। তবে এবার আর ভাগ্য সহায় হলো না নাসিমা বেগমের। টানা ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে জীবন নিয়ে বেঁচে ফিরলেও এবারের দুর্ঘটনার ছয় ঘণ্টা পরই পদ্মা থেকে উদ্ধার হয় নাসিমার নিথর দেহ। সৃষ্টিকর্তার ইশারায় পদ্মায় ডুবে হেরে গেল জীবিকার যুদ্ধের ‘নিঃসঙ্গ শেরপা’ নাসিমা।

দুই স্বজনসহ নাসিমার (৪০) মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে বিরাজ করছে শোকের ছায়া। জানা গেছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী নাসিমা বেগম। জীবিকার সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। তবে দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পরও কোনো চাকরি পাননি তিনি। পরে ঈদ উপলক্ষ্যে তিনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান।

 

ঈদ শেষে গত ২৫ মার্চ বুধবার বিকেলে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় তারা সবাই ডুবে যান। কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

এদিকে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহতদের লাশ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়িটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে এতে তেমন গুরুতর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। গতকাল শুক্রবার জুমার পর পারিবারিক কবরে তাদের দাফন করা হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন নাসিমা বেগম। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তিনি তিন দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হন। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও ঢাকা গিয়েছিলেন। সেটাই যেন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।

পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছি। এদিকে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন বলেন, নিহত নাসিমার বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

১২ বছর আগে রানা প্লাজা দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন নাসিমা, কিন্তু এবার পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে প্রাণ হারালেন তিনি

আপডেট সময় : ০৮:৩২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
383

জীবন কার কোথায় থমকে যাবে, কেউ জানে না। জানত না নাসিমা বেগমও। তাই তো ১২ বছর আগে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফিরলেও গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন তার। নাসিমা বেগম ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফেরা একটি আলোচিত নাম। ঘটনার তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন তিনি। তবে এবার আর ভাগ্য সহায় হলো না নাসিমা বেগমের। টানা ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে জীবন নিয়ে বেঁচে ফিরলেও এবারের দুর্ঘটনার ছয় ঘণ্টা পরই পদ্মা থেকে উদ্ধার হয় নাসিমার নিথর দেহ। সৃষ্টিকর্তার ইশারায় পদ্মায় ডুবে হেরে গেল জীবিকার যুদ্ধের ‘নিঃসঙ্গ শেরপা’ নাসিমা।

দুই স্বজনসহ নাসিমার (৪০) মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে বিরাজ করছে শোকের ছায়া। জানা গেছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী নাসিমা বেগম। জীবিকার সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। তবে দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পরও কোনো চাকরি পাননি তিনি। পরে ঈদ উপলক্ষ্যে তিনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান।

 

ঈদ শেষে গত ২৫ মার্চ বুধবার বিকেলে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় তারা সবাই ডুবে যান। কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

এদিকে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহতদের লাশ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়িটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে এতে তেমন গুরুতর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। গতকাল শুক্রবার জুমার পর পারিবারিক কবরে তাদের দাফন করা হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন নাসিমা বেগম। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তিনি তিন দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হন। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও ঢাকা গিয়েছিলেন। সেটাই যেন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।

পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছি। এদিকে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন বলেন, নিহত নাসিমার বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।