ঢাকা ০২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৪ নেতানিয়াহু নিহতের গুঞ্জন এ বিষয়ে নতুন বার্তা দিল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সাভারের পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় নান্দাইলে ইজি বাইক চাপায় প্রাণ গেল শিশুর ​রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলা ২ আসামি গ্রেপ্তার উলিপুরে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২৬ ভিজিএফ কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে ছাড় দেওয়া হবে না এমপি ব্যারিস্টার সালেহী রাজশাহীর বাঘায় সিএনজি ভটভটির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ আহত ২ দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম মহিপুরে ব্যবসায়ীদের গার্ডিয়ান নেই দখল অব্যবস্থাপনা ও দূষণে বাড়ছে দুর্ভোগ গোমস্তাপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ পালিত

নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৪

মুজাহিদ হোসেন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
44

নওগাঁ সদর উপজেলার চাঞ্চল্যকর মিতু বানু হত্যা ও সেপটিক ট্যাংকে লাশ গোপন করার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জানুয়ারি সকালে আসামি জাহান আলী মনতাসুর নামে এক ব্যক্তিকে ফোন করে জানায় যে, তার বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে একটি লাশ রয়েছে। বিষয়টি জানার পরদিন সকালে নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের ট্যাংকির ভেতর থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করে। পরে এ ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা (নং-৪৭) দায়ের করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মামলাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ চারজন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানায়, গত ৭ মার্চ প্রথমে জাহান আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯ মার্চ সামিদুল ও সুজ্জাতকে এবং ১০ মার্চ রেন্টু ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা মিস মিতু বানুকে ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে নওগাঁ শহর থেকে বিল ভবানীপুর গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে গ্রামের মালা নামের এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত বাড়িতে জাহান আলী, রেন্টু, সুজ্জাত, সামিদুলসহ আরও ১-২ জন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল।

এ সময় টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে ভিকটিম মিতু বানু চিৎকার শুরু করেন। এতে মানসম্মানের ভয়ে আসামি রেন্টু তার মুখ ও গলা চেপে ধরে এবং অন্যরা হাত-পা ধরে রাখে। কিছুক্ষণ পর মিতু মারা গেলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে রেন্টুর পরামর্শে সবাই মিলে বিল ভবানীপুর গ্রামের মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে লাশ ফেলে গোপন করে রাখে।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি সামিদুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ যেকোনো ধরনের অপরাধের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে সর্বদা তৎপর রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৪

আপডেট সময় : ১০:৫৫:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
44

নওগাঁ সদর উপজেলার চাঞ্চল্যকর মিতু বানু হত্যা ও সেপটিক ট্যাংকে লাশ গোপন করার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জানুয়ারি সকালে আসামি জাহান আলী মনতাসুর নামে এক ব্যক্তিকে ফোন করে জানায় যে, তার বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে একটি লাশ রয়েছে। বিষয়টি জানার পরদিন সকালে নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের ট্যাংকির ভেতর থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করে। পরে এ ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা (নং-৪৭) দায়ের করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মামলাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ চারজন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানায়, গত ৭ মার্চ প্রথমে জাহান আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯ মার্চ সামিদুল ও সুজ্জাতকে এবং ১০ মার্চ রেন্টু ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা মিস মিতু বানুকে ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে নওগাঁ শহর থেকে বিল ভবানীপুর গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে গ্রামের মালা নামের এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত বাড়িতে জাহান আলী, রেন্টু, সুজ্জাত, সামিদুলসহ আরও ১-২ জন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল।

এ সময় টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে ভিকটিম মিতু বানু চিৎকার শুরু করেন। এতে মানসম্মানের ভয়ে আসামি রেন্টু তার মুখ ও গলা চেপে ধরে এবং অন্যরা হাত-পা ধরে রাখে। কিছুক্ষণ পর মিতু মারা গেলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে রেন্টুর পরামর্শে সবাই মিলে বিল ভবানীপুর গ্রামের মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে লাশ ফেলে গোপন করে রাখে।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি সামিদুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ যেকোনো ধরনের অপরাধের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে সর্বদা তৎপর রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে।