ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভারে এক চালককে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নির্ধারণে আলোচনার জন্য সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে ছেলের খুশির জন্য মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলাম সেই মোটরসাইকেলই শেষ পর্যন্ত আমার ছেলেকে কেড়ে নিল এক-এগারোর সময়ে তারেক রহমানকে নির্যাতনকারীদের একজন আফজাল বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মানবিকতায় এগিয়ে এলো উপজেলা প্রশাসন: হৃদরোগে আক্রান্ত আঁখি আক্তারের পাশে ইউএনও চাকরীর নামে অর্থ আত্নসাৎ রামেকে টেন্ডার ও নিয়োগ বাণিজ্য রাজশাহীতে আইটিইসি ডে-২০২৬ উদযাপন রাজশাহীর নতুন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম রাস্তা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান 

ছেলের খুশির জন্য মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলাম সেই মোটরসাইকেলই শেষ পর্যন্ত আমার ছেলেকে কেড়ে নিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:১২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
49

ছেলে অনেক দিন ধরেই মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য আবদার করছিল। বাবা শুরুতে রাজি হননি—সড়কের ঝুঁকির কথা ভেবেই আপত্তি ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছেলের ইচ্ছার কাছে হার মানেন তিনি। মাসখানেক আগে একটি নতুন মোটরসাইকেল কিনে দেন। আর সেই মোটরসাইকেলই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল ছেলের মৃত্যুর কারণ।

আজ সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকার ইউলুপ ব্রিজের ওপর একটি সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক মো. ফাহিম (১৭) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন, তবে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উত্তর বাড্ডা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে ছেলের নিথর দেহ দেখে ভেঙে পড়েন মা–বাবা। ছেলের মাথায় হাত রেখে বিলাপ করতে করতে বাবা মো. হালিম বলেন, “আমি মোটরসাইকেল কিনতে চাইনি। পরে ছেলের খুশির জন্য কিনে দিলাম। সেই মোটরসাইকেলই আজ আমার ছেলেকে কেড়ে নিল… আমার ছেলে আর নেই।”

ফাহিমের মা সাথী বেগমও হাসপাতালে ছুটে আসেন। সন্তানের শোকে তিনি বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছিলেন। স্বজনেরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করলেও তাঁর কান্না থামছিল না।

ফাহিম বাড্ডা এলাকার সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। প্রায় এক মাস আগে তার বাবা তাকে মোটরসাইকেলটি কিনে দেন। এক বন্ধুকে নিয়ে বের হওয়ার সময়ই দুর্ঘটনার শিকার হয় সে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী মো. বাদশা জানান, হঠাৎ একটি শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, একজন রাস্তায় পড়ে ছটফট করছেন এবং পাশে একটি মোটরসাইকেল পড়ে আছে। স্থানীয় লোকজন আরেক আহত ব্যক্তিকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তিনি ওই আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি বলেন, একটি সিএনজি অটোরিকশা মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত চলে যায়। এতে মোটরসাইকেলের আরোহীরা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি বাড্ডা থানাকে জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ছেলের খুশির জন্য মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলাম সেই মোটরসাইকেলই শেষ পর্যন্ত আমার ছেলেকে কেড়ে নিল

আপডেট সময় : ০৬:১২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
49

ছেলে অনেক দিন ধরেই মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য আবদার করছিল। বাবা শুরুতে রাজি হননি—সড়কের ঝুঁকির কথা ভেবেই আপত্তি ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছেলের ইচ্ছার কাছে হার মানেন তিনি। মাসখানেক আগে একটি নতুন মোটরসাইকেল কিনে দেন। আর সেই মোটরসাইকেলই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল ছেলের মৃত্যুর কারণ।

আজ সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকার ইউলুপ ব্রিজের ওপর একটি সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক মো. ফাহিম (১৭) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন, তবে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উত্তর বাড্ডা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে ছেলের নিথর দেহ দেখে ভেঙে পড়েন মা–বাবা। ছেলের মাথায় হাত রেখে বিলাপ করতে করতে বাবা মো. হালিম বলেন, “আমি মোটরসাইকেল কিনতে চাইনি। পরে ছেলের খুশির জন্য কিনে দিলাম। সেই মোটরসাইকেলই আজ আমার ছেলেকে কেড়ে নিল… আমার ছেলে আর নেই।”

ফাহিমের মা সাথী বেগমও হাসপাতালে ছুটে আসেন। সন্তানের শোকে তিনি বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছিলেন। স্বজনেরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করলেও তাঁর কান্না থামছিল না।

ফাহিম বাড্ডা এলাকার সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। প্রায় এক মাস আগে তার বাবা তাকে মোটরসাইকেলটি কিনে দেন। এক বন্ধুকে নিয়ে বের হওয়ার সময়ই দুর্ঘটনার শিকার হয় সে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী মো. বাদশা জানান, হঠাৎ একটি শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, একজন রাস্তায় পড়ে ছটফট করছেন এবং পাশে একটি মোটরসাইকেল পড়ে আছে। স্থানীয় লোকজন আরেক আহত ব্যক্তিকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তিনি ওই আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি বলেন, একটি সিএনজি অটোরিকশা মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত চলে যায়। এতে মোটরসাইকেলের আরোহীরা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি বাড্ডা থানাকে জানানো হয়েছে।