ক্ষমতা গ্রহণের একেবারে দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ১০:২৭:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
নিশ্চয়ই। নিচে একই বিষয়বস্তু রেখে আধুনিক, প্রাঞ্জল বাংলা ভাষায় পুনর্লিখন করা হলো—
প্রায় দুই দশকের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরে তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের শাসনক্ষমতা গ্রহণের একেবারে দ্বারপ্রান্তে এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ফেরার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনায় রয়েছেন। একসময় যেভাবে তার বাবা-মা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই তিনিও দেশের নেতৃত্বে আসতে পারেন।
রয়টার্স জানায়, জনমত জরিপের পূর্বাভাস মিললে বৃহস্পতিবারের নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী এই শান্ত ও সংযত নেতার জন্য হবে এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ। গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারান তার দলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই রাজনৈতিক পালাবদলের পর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তারেক রহমান পান বিপুল গণসংবর্ধনা।
বর্তমানে শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে রয়েছেন। শেখ হাসিনা ও তারেক রহমানের মা বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ছিলেন। তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশের শাসনভার পরিচালনা করেন।
তারেক রহমান বলেছেন, তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এমনভাবে পুনর্গঠন করতে চান যাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে, তবে কোনো একক শক্তির ওপর দেশ অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল না হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি শেখ হাসিনার নীতির বিপরীত, যিনি দিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য পরিচিত ছিলেন।
তিনি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন। পাশাপাশি পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে খেলনা ও চামড়াজাত পণ্যের মতো নতুন শিল্প খাত গড়ে তোলার কথা বলেছেন। স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা রোধে তিনি প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই দফা বা ১০ বছরে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাবও দিয়েছেন।
কার্ডিওলজিস্ট স্ত্রী ও ব্যারিস্টার কন্যাকে নিয়ে ঢাকায় ফেরার পর ঘটনাপ্রবাহ এত দ্রুত এগিয়েছে যে সময় কীভাবে কেটে গেছে, তা বোঝার সুযোগই পাননি এমনটাই জানান তিনি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কন্যা জাইমা রহমানকে পাশে নিয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “দেশে ফেরার পর প্রতিটি মিনিট কীভাবে কেটেছে, তা আমি নিজেও বলতে পারি না।”
১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্ম তারেক রহমানের। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা শুরু করলেও তা শেষ করেননি। পরবর্তীতে তিনি বস্ত্র ও কৃষিভিত্তিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।
দেশে ফেরার পর নিজেকে একজন পরিণত রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন তারেক রহমান। শেখ হাসিনার শাসনামলে তার ও তার পরিবারের ওপর চালানো নিপীড়নের প্রসঙ্গ পেছনে ফেলে তিনি ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চান।
তিনি বলেন, “প্রতিশোধে কী লাভ? প্রতিশোধ মানুষকে দেশছাড়া করে। এতে কোনো কল্যাণ আসে না। এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা।”
শেখ হাসিনার শাসনামলে তারেক রহমান একাধিক মামলার প্রধান আসামি ছিলেন এবং অনুপস্থিতিতেই কয়েকটি মামলায় দণ্ডিত হন। তিনি সব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছিলেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারানোর পর তিনি সব মামলায় খালাস পান।
লন্ডনে অবস্থানকালে তিনি দেখেছেন, কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে বিএনপি কোণঠাসা হয়েছে, শীর্ষ নেতারা কারাবন্দি হয়েছেন, কর্মীরা নিখোঁজ হয়েছেন এবং দলীয় কার্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে।
দেশে ফিরে তিনি সংযত ও ভারসাম্যপূর্ণ ভাষায় কথা বলছেন, উসকানিমূলক বক্তব্য এড়িয়ে চলছেন এবং জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতার আহ্বান জানাচ্ছেন। ‘রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা’ ফিরিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের অঙ্গীকার নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে বিএনপি সমর্থকদের।
দলের ভেতরে তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ এখন দৃঢ়। দলীয় সূত্রগুলো জানায়, প্রার্থী বাছাই, রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ ও জোট আলোচনা সবকিছুই তিনি সরাসরি তদারকি করছেন, যা আগে বিদেশে থেকেও করতেন।
তারেক রহমানের ভাষায়, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তা টেকসই করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, “গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমেই আমরা সমৃদ্ধ হতে পারি, দেশকে পুনর্গঠন করতে পারি। গণতন্ত্র থাকলেই জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। আমরা গণতন্ত্র চর্চা করতে চাই, আমরা আমাদের দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে চাই।”
চাইলে এটিকে ব্রেকিং নিউজ, ফিচার রিপোর্ট, বা সংক্ষিপ্ত নিউজ ভার্সন হিসেবেও সাজিয়ে দিতে পারি।


















