ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভোটের গোপন কক্ষে ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ইসি সচিব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে নেতা কর্মীদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ফজরের নামাজ আদায়ের আহ্বান জানালেন তারেক রহমান নির্বাচনকে ঘিরে কোনো হুমকি নেই, এই শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক: ডিএমপি কমিশনার ময়মনসিংহে বিদ্রোহীদের প্রভাব বাড়ছে, চাপের মুখে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের দিনে মেট্রোরেল চলাচল নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি ভোটের দিন প্রার্থী ও নির্বাচনি এজেন্টের যানবাহন ব্যবহারে কমিশনের নির্দেশনা নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা পৌঁছে দেওয়া জরুরি প্রধান উপদেষ্টা ঢাকা ১৯ আসনে পরিকল্পিত সাভার ও আশুলিয়া গড়তে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবু ঢাকা ১৯ আসনে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে গণসংযোগ করে মোঃ খোরশেদ আলম মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে বিএনপি: সালাহউদ্দিন

ময়মনসিংহে বিদ্রোহীদের প্রভাব বাড়ছে, চাপের মুখে দলীয় প্রার্থী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
18

শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য ও লোকসংস্কৃতির তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহ। উত্তর-মধ্যাঞ্চলের এই জেলায় ভোটের উত্তাপ তুলনামূলকভাবে বেশি। ময়মনসিংহের সবচেয়ে বেশি আসনে ‘বিদ্রোহী’ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। মোট ১১টি আসনের মধ্যে ৮টি আসনেই দলীয় প্রার্থীকে চাপে ফেলেছে স্ব-দলীয় বিদ্রোহীরা। এর মধ্যে কোনোটিতে দ্বিমুখী, কোনোটিতে ত্রিমুখী, এমনকি চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ফুলবাড়িয়া: দুই দলেই বিদ্রোহী

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসন। এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে দলেরই একজন বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে দলেরই একজন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সারা দেশে এটি একমাত্র আসন, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটের মাঠে আছেন।

নির্বাচনী উত্তেজনা কতটা, তা বুঝতে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে ময়মনসিংহ হয়ে ফুলবাড়িয়ার পথে রওনা হই। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব প্রায় ১১৫ কিলোমিটার।

শহরের বাউন্ডারি রোড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ফুলবাড়িয়ার উদ্দেশে যাত্রা; যা আরও ২০ কিলোমিটারের মতো পথ। সিএনজিচালক শাকিল কোনো রাখঢাক না রেখেই বললেন, ‘এখানে এখন ঘোড়া আর ফুটবলের কথাই বেশি শোনা যায়। সিএনজিতে যারা ওঠে, তারাও এই দুই প্রতীকের হিসাব করে। ধানের শীষ বা দাঁড়িপাল্লার কথা আগের মতো নেই।’

ফুলবাড়িয়া বাজারে নেমে এক মুচির ছোট্ট টংদোকানে কানে আসে নির্বাচনী আলাপ। ৭০ বছর বয়সী মুচি দিনেন্দ্র ঋষি বলেন, তিনি ভোট দেবেন। বিপদ-আপদে যাঁকে পান, এবার তাঁকে ভোট দেবেন।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাস্তার দুই পাশে বোরো ধানের চারা রোপণ করতে দেখা যায় কৃষকদের। উপজেলা অফিসের তথ্যমতে, এই এলাকার অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি কৃষি। বালিয়ান ইউনিয়নের একটি খেতে কথা হয় কৃষক সোহাগ আলমের সঙ্গে। তিনি নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের মনোভাবাপন্ন বলে পরিচয় দিয়ে বলেন, দল এবার যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে পারেনি। দলীয় প্রতীকের বাইরে তিনি ভোট দিতে পারবেন না, তবে মাঠে ‘ঘোড়া’ ও ‘ফুটবল’ প্রতীকের অবস্থান ভালো।

এখানে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম (ফারুক)। তাঁর বিপরীতে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে দাঁড়িয়েছেন তাঁরই চাচি, উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি আখতার সুলতানা। তাঁর স্বামী প্রয়াত শামসুদ্দিন আহমেদ বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য।

আখতারুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়ে নির্যাতন সহ্য করে এলাকায় দলের নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন বলেই দল তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, স্বদলীয় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। এখন নির্বাচনে নেমে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন।

আখতার সুলতানা বলেন, তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন এবং মানুষের জন্য কাজ করতে চান। ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করতে চান না।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে দলের জেলা শাখার নায়েবে আমির কামরুল হাসান। দলটির সাবেক জেলা আমির জসিম উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঘোড়া প্রতীকে। তিনি এর আগে তিনবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যান।

কামরুল হাসান বলেন, উনি (জসিম উদ্দিন) এখন দলে নেই। স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নিয়ে কোনো মূল্যায়ন করতে চান না। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

আর জসিম উদ্দিনও মনে করেন, দল-মতনির্বিশেষে সব পক্ষের কাছ থেকে তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।

সব মিলিয়ে এ আসনে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। উপজেলা ঘুরে চারজন প্রার্থীরই সমান প্রচারণা দেখা গেল। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী নূরে আলম সিদ্দিকী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, ১৯৭৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১২টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি দুবার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী চারবার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, ফুলবাড়িয়াসহ পুরো ময়মনসিংহ জেলায় আওয়ামী লীগের ভোটার তুলনামূলকভাবে বেশি। দলটি নির্বাচনে না থাকলেও তাঁদের ভোট কোন দিকে যাবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। অনেকের ভাষায়, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা ছাপিয়ে আলোচনায় এখন ফুটবল ও ঘোড়া প্রতীক।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, ১৯৭৩ থেকে এ পর্যন্ত ১২টি সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ থেকে। দুবার বিএনপি থেকে এবং চারবার স্বতন্ত্র প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হন।

এ আসনে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত ভোটার তুলনামূলক বেশি। তাই এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকলেও তাদের ভোট কোন দিকে যাবে, সেটাও দেখার বিষয়।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।

ত্রিশালে ত্রিমুখী লড়াই

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে এবারের নির্বাচনে ছয়জন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই ত্রিমুখী। এখানে বিএনপির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান লিটন। বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার সাদাত ‘কাপ-পিরিচ’ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তাঁর বাবা প্রয়াত আবদুল খালেক এ আসনে অতীতে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন।

এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত এই এলাকার ভোটারদের মতে, আঞ্চলিক অবস্থান ও পারিবারিক পরিচয় ভোটের ফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে ত্রিমুখী লড়াই হবে—ধানের শীষ, কাপ–পিরিচ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে।

কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলছিলেন, প্রার্থীদের আঞ্চলিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আবার ধানের শীষ ও কাপ–পিরিচের লড়াইয়ের কারণে অপর একজন প্রার্থী সুবিধা পেতে পারেন।

এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহিরুল ইসলাম।

ময়মনসিংহ-৭ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩ হাজার ২৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ১৭৯ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭০ জন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ময়মনসিংহে বিদ্রোহীদের প্রভাব বাড়ছে, চাপের মুখে দলীয় প্রার্থী

আপডেট সময় : ০৬:০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
18

শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য ও লোকসংস্কৃতির তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহ। উত্তর-মধ্যাঞ্চলের এই জেলায় ভোটের উত্তাপ তুলনামূলকভাবে বেশি। ময়মনসিংহের সবচেয়ে বেশি আসনে ‘বিদ্রোহী’ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। মোট ১১টি আসনের মধ্যে ৮টি আসনেই দলীয় প্রার্থীকে চাপে ফেলেছে স্ব-দলীয় বিদ্রোহীরা। এর মধ্যে কোনোটিতে দ্বিমুখী, কোনোটিতে ত্রিমুখী, এমনকি চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ফুলবাড়িয়া: দুই দলেই বিদ্রোহী

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসন। এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে দলেরই একজন বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে দলেরই একজন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সারা দেশে এটি একমাত্র আসন, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটের মাঠে আছেন।

নির্বাচনী উত্তেজনা কতটা, তা বুঝতে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে ময়মনসিংহ হয়ে ফুলবাড়িয়ার পথে রওনা হই। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব প্রায় ১১৫ কিলোমিটার।

শহরের বাউন্ডারি রোড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ফুলবাড়িয়ার উদ্দেশে যাত্রা; যা আরও ২০ কিলোমিটারের মতো পথ। সিএনজিচালক শাকিল কোনো রাখঢাক না রেখেই বললেন, ‘এখানে এখন ঘোড়া আর ফুটবলের কথাই বেশি শোনা যায়। সিএনজিতে যারা ওঠে, তারাও এই দুই প্রতীকের হিসাব করে। ধানের শীষ বা দাঁড়িপাল্লার কথা আগের মতো নেই।’

ফুলবাড়িয়া বাজারে নেমে এক মুচির ছোট্ট টংদোকানে কানে আসে নির্বাচনী আলাপ। ৭০ বছর বয়সী মুচি দিনেন্দ্র ঋষি বলেন, তিনি ভোট দেবেন। বিপদ-আপদে যাঁকে পান, এবার তাঁকে ভোট দেবেন।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাস্তার দুই পাশে বোরো ধানের চারা রোপণ করতে দেখা যায় কৃষকদের। উপজেলা অফিসের তথ্যমতে, এই এলাকার অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি কৃষি। বালিয়ান ইউনিয়নের একটি খেতে কথা হয় কৃষক সোহাগ আলমের সঙ্গে। তিনি নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের মনোভাবাপন্ন বলে পরিচয় দিয়ে বলেন, দল এবার যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে পারেনি। দলীয় প্রতীকের বাইরে তিনি ভোট দিতে পারবেন না, তবে মাঠে ‘ঘোড়া’ ও ‘ফুটবল’ প্রতীকের অবস্থান ভালো।

এখানে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম (ফারুক)। তাঁর বিপরীতে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে দাঁড়িয়েছেন তাঁরই চাচি, উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি আখতার সুলতানা। তাঁর স্বামী প্রয়াত শামসুদ্দিন আহমেদ বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য।

আখতারুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়ে নির্যাতন সহ্য করে এলাকায় দলের নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন বলেই দল তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, স্বদলীয় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। এখন নির্বাচনে নেমে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন।

আখতার সুলতানা বলেন, তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন এবং মানুষের জন্য কাজ করতে চান। ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করতে চান না।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে দলের জেলা শাখার নায়েবে আমির কামরুল হাসান। দলটির সাবেক জেলা আমির জসিম উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঘোড়া প্রতীকে। তিনি এর আগে তিনবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যান।

কামরুল হাসান বলেন, উনি (জসিম উদ্দিন) এখন দলে নেই। স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নিয়ে কোনো মূল্যায়ন করতে চান না। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

আর জসিম উদ্দিনও মনে করেন, দল-মতনির্বিশেষে সব পক্ষের কাছ থেকে তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।

সব মিলিয়ে এ আসনে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। উপজেলা ঘুরে চারজন প্রার্থীরই সমান প্রচারণা দেখা গেল। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী নূরে আলম সিদ্দিকী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, ১৯৭৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১২টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি দুবার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী চারবার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, ফুলবাড়িয়াসহ পুরো ময়মনসিংহ জেলায় আওয়ামী লীগের ভোটার তুলনামূলকভাবে বেশি। দলটি নির্বাচনে না থাকলেও তাঁদের ভোট কোন দিকে যাবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। অনেকের ভাষায়, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা ছাপিয়ে আলোচনায় এখন ফুটবল ও ঘোড়া প্রতীক।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, ১৯৭৩ থেকে এ পর্যন্ত ১২টি সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ থেকে। দুবার বিএনপি থেকে এবং চারবার স্বতন্ত্র প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হন।

এ আসনে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত ভোটার তুলনামূলক বেশি। তাই এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকলেও তাদের ভোট কোন দিকে যাবে, সেটাও দেখার বিষয়।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।

ত্রিশালে ত্রিমুখী লড়াই

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে এবারের নির্বাচনে ছয়জন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই ত্রিমুখী। এখানে বিএনপির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান লিটন। বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার সাদাত ‘কাপ-পিরিচ’ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তাঁর বাবা প্রয়াত আবদুল খালেক এ আসনে অতীতে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন।

এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত এই এলাকার ভোটারদের মতে, আঞ্চলিক অবস্থান ও পারিবারিক পরিচয় ভোটের ফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে ত্রিমুখী লড়াই হবে—ধানের শীষ, কাপ–পিরিচ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে।

কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলছিলেন, প্রার্থীদের আঞ্চলিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আবার ধানের শীষ ও কাপ–পিরিচের লড়াইয়ের কারণে অপর একজন প্রার্থী সুবিধা পেতে পারেন।

এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহিরুল ইসলাম।

ময়মনসিংহ-৭ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩ হাজার ২৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ১৭৯ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭০ জন।