সাভারের ভেজাল সয়াবিন তেল কারখানায় অভিযান ১ বছরের জেল ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করে
- আপডেট সময় : ১০:৫৪:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
সাভারে ভেজাল সয়াবিন তেল ও নকল ডিটারজেন্ট পাউডার তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় মালামাল জব্দসহ কারখানাটি সিলগালা করা হয়। এছাড়া কারখানাটির ব্যবস্থাপক এক নারীকে এক বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে সাভার সদর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য মজিবুর রহমানের দেওগা মহল্লার বাড়িতে অবস্থিত ‘গ্যালাক্সি এগ্রো লিমিটেড’ কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানান সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো সাইফুল ইসলাম। দণ্ড পাওয়া আসমা আক্তার কারখানাটির ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করতেন।
এ সময় সেখান থেকে আরও দুই নারীকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশাল এ কারখানাটিতে খোলা সয়াবিন তেল, পাম ওয়েল ও ফার্নিস ওয়েল কিনে এনে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে তা বোতলজাত করা হয়।
ভিটামিন-এ গুণাবলি সমৃদ্ধ সয়া ফটিফাইট সয়াবিন তেলের মোড়ক লাগিয়ে এক, দুই, তিন ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত করে তা খুচরা দোকানে বাজারজাত করা হয়। কারখানাটিতে নেই কোনো ল্যাব, নেই কেমিস্ট, নেই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন, তবুও তারা বোতলের মোড়কে বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে।
এ ছাড়া কারখানাটিতে নামি ব্রান্ড ‘সানশাইন কোম্পানির’ সানশাইন ডিটারজেন্ট পাউডার নামে নকল পাউডার তৈরি করা হচ্ছিল। ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, খোলা ও ভেজাল তেল বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া বোতলজাত করে বিক্রির দায়ে ম্যানেজার আসমা আক্তারকে এক বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
যা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া কারখানার ভেজাল মালামাল জব্দ ও কারখানাটি সিলগালা করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরিফ হোসেনের জিম্মায় দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
আরিফ হোসেন বলেন, এর আগেও ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মজিবুর রহমানকে কারখানাটির ব্যাপারে সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি। গ্যালাক্সি এগ্রো লিমিটেডের মালিক নিজামুদ্দিন পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে আটক ম্যানেজার আসমা আক্তারের দাবি, তারা কারখানাটি বড় করার চেষ্টা করছেন। পরে কাগজপত্র করবেন। সেখানে ভেজাল কিছু করেননি তারা। এ সময় পাশের আরেকটি কসমেটিক তৈরির কারখানায় অভিযানে গেলে সেখানকার শ্রমিক ও কর্মকর্তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান।
অভিযানে সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



















