সাভারের আলোচিত সিরিয়াল কিলার সম্রাট মারা গেছে
- আপডেট সময় : ০৫:৫২:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
ভারের আলোচিত সেই সিরিয়াল কিলার মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে সাইকো সম্রাট ওরফে সবুজ শেখ মারা গেছেন। আজ সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হেলাল উদ্দিন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ২৩ মার্চ ভোরে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে কারা কর্তৃপক্ষ মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে সাইকো সম্রাট ওরফে সবুজ শেখকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
চলতি বছরের গোড়ার দিকে সাভার থানা রোডের পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে একের পর এক রহস্যে ঘেরা খুনের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জনমনে। পরে নিবিড় নজরদারিতে ধরে পড়ে সিরিয়াল কিলার মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে সাইকো সম্রাট ওরফে সবুজ শেখ।
সাইকো সম্রাট নামে পরিচয় দিলেো তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোছামান্দা গ্রামের পান্না শেখের ছেলে।
পুলিশ বলছে, ২০১৪ সালে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নে প্রথম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে অপরাধজগতে তার প্রবেশ। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে চার্জশিটভুক্ত হলেও পরে জামিনে বের হয়ে আসে সে। ২০১৯ সালে তিন মাসের মধ্যে দুবার মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয় এবং পুনরায় জামিনে এসে ছদ্মবেশে ভবঘুরে জীবনযাপনের আড়ালেই একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটায় সে। তার বিরুদ্ধে সাতটি হত্যা ও দুটি মাদক মামলা বিচারাধীন ছিল।
পুলিশের অপরাধ খতিয়ান বলেছে, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামের এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা, ২৯ আগস্ট পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে এক যুবককে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা, ১১ অক্টোবর একই স্থানে আরেক নারীকে হত্যা, ১৯ ডিসেম্বর আরও এক যুবককে হত্যা এবং ১৭ জানুয়ারি গভীর রাতে এক নারীসহ দুজনকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা স্বীকার করে সে। এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ছিল তানিয়া আক্তারের ঘটনা। তদন্তের একপর্যায়ে উদ্ধার হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সম্রাট নিজ কাঁধে করে এক নারীর নিথর দেহ দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাচ্ছে এবং আগুনে পোড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পরে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত ইমতিয়াজ, এসআই ফাইজুর খান এবং পুলিশ সদস্য মনির হোসেনের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর দেশজুড়ে আলোচনায় আসে এই সিরিয়াল কিলার।
সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে সাইকো সম্রাট ওরফে সবুজ শেখের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।



















