ঢাকা ১১:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অবৈধভাবে জ্বালানি মজুতের তথ্য দিলে পাওয়া যাবে পুরস্কার। নওগাঁর সাপাহারে নাবালককে প্রলোভনে ফেলে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক গ্রেফতার ৩১ বার তোপধ্বনিতে বাঘায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হোসেনপুরে পাপমুক্তির আশায় ব্রহ্মপুত্র নদে অষ্টমী স্নানে লাখো পূণ্যার্থীর ঢল ‎ সাভার ও আশুলিয়া ও ধামরাই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে  উলিপুরে গণহত্যা দিবস পালন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, ইতিহাস স্মরণে আলোচনা সভা বাঘায় জ্বালানি সংকট  মুহুর্তে পাম্পে তালা ডিপোতে রাতের আঁধারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে মিজান চৌধুরী আগামী ৭৫ দিনের মধ্যে পরিবর্তনশীল উলিপুর গড়ার প্রতিশ্রুতি ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী যুক্তরাষ্ট্রের একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

যে দেশে বিশ্বাসের অভাব, সে দেশ কীভাবে উন্নতি করবে মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:১৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৭৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
134

স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বড়গাঁও আলিম মাদরাসা এলাকায় এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা কি জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করতে পারি? আমি আপনাদের কাছে পরিষ্কারভাবে জানতে চাই—পারি কি? না ভাই, পারি না। এটা নৈতিকতার প্রশ্ন। আমার দেশ বাংলাদেশ, আমি একটি স্বাধীন দেশে বিশ্বাস করি।”

তিনি আরও বলেন, “যারা এই দেশকে বিশ্বাসই করে না, তারা কীভাবে দেশের উন্নয়ন করবে? তারা তো বাংলাদেশকেই বিশ্বাস করে না। তাই আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আমরা জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেব না। জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তারা দেশকে রক্ষা করতে পারবে কি? পারবে না।”

তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য একটি বড় সুযোগ। আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই।”

জামায়াতের ভূমিকা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “আপনারা কি জামায়াতকে নতুন করে দেখছেন? আমরা নয়। আমরা স্বাধীনতার আগেও জামায়াতকে দেখেছি, আমাদের বাবা-চাচারাও দেখেছেন। আমার বাবা মির্জা রুহুল আমিন চোখা মিয়া প্রায়ই বলতেন—‘জামায়াত থেকে সাবধানে থেকো।’ আমি জিজ্ঞেস করতাম কেন, তিনি বলতেন—‘জামায়াত একটি মুনাফেক দল। কথা এক রকম, কাজ আরেক রকম।’”

তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান আন্দোলনে জামায়াত সমর্থন দেয়নি—এটা ঐতিহাসিক সত্য। আবার ১৯৭১ সালে যখন আমরা মুক্তিযুদ্ধ শুরু করলাম, তখন তারা এর বিরোধিতা করেছিল। তারা বলেছিল, পাকিস্তান ভাঙার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমরা কি শখ করে পাকিস্তান ভেঙেছি? পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন আমাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে, তখনই আমরা যুদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছি।”

তিনি বলেন, “পাকিস্তানি বাহিনী ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে। সেই সময় জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষ নিয়েছিল।”

সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ভোটারদের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান। তিনি নির্বাচিত হলে সারের সংকট দূর করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

যে দেশে বিশ্বাসের অভাব, সে দেশ কীভাবে উন্নতি করবে মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ০৬:১৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
134

স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বড়গাঁও আলিম মাদরাসা এলাকায় এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা কি জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করতে পারি? আমি আপনাদের কাছে পরিষ্কারভাবে জানতে চাই—পারি কি? না ভাই, পারি না। এটা নৈতিকতার প্রশ্ন। আমার দেশ বাংলাদেশ, আমি একটি স্বাধীন দেশে বিশ্বাস করি।”

তিনি আরও বলেন, “যারা এই দেশকে বিশ্বাসই করে না, তারা কীভাবে দেশের উন্নয়ন করবে? তারা তো বাংলাদেশকেই বিশ্বাস করে না। তাই আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আমরা জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেব না। জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তারা দেশকে রক্ষা করতে পারবে কি? পারবে না।”

তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য একটি বড় সুযোগ। আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই।”

জামায়াতের ভূমিকা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “আপনারা কি জামায়াতকে নতুন করে দেখছেন? আমরা নয়। আমরা স্বাধীনতার আগেও জামায়াতকে দেখেছি, আমাদের বাবা-চাচারাও দেখেছেন। আমার বাবা মির্জা রুহুল আমিন চোখা মিয়া প্রায়ই বলতেন—‘জামায়াত থেকে সাবধানে থেকো।’ আমি জিজ্ঞেস করতাম কেন, তিনি বলতেন—‘জামায়াত একটি মুনাফেক দল। কথা এক রকম, কাজ আরেক রকম।’”

তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান আন্দোলনে জামায়াত সমর্থন দেয়নি—এটা ঐতিহাসিক সত্য। আবার ১৯৭১ সালে যখন আমরা মুক্তিযুদ্ধ শুরু করলাম, তখন তারা এর বিরোধিতা করেছিল। তারা বলেছিল, পাকিস্তান ভাঙার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমরা কি শখ করে পাকিস্তান ভেঙেছি? পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন আমাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে, তখনই আমরা যুদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছি।”

তিনি বলেন, “পাকিস্তানি বাহিনী ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে। সেই সময় জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষ নিয়েছিল।”

সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ভোটারদের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান। তিনি নির্বাচিত হলে সারের সংকট দূর করার প্রতিশ্রুতিও দেন।