যে দেশে বিশ্বাসের অভাব, সে দেশ কীভাবে উন্নতি করবে মির্জা ফখরুল
- আপডেট সময় : ০৬:১৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বড়গাঁও আলিম মাদরাসা এলাকায় এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা কি জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করতে পারি? আমি আপনাদের কাছে পরিষ্কারভাবে জানতে চাই—পারি কি? না ভাই, পারি না। এটা নৈতিকতার প্রশ্ন। আমার দেশ বাংলাদেশ, আমি একটি স্বাধীন দেশে বিশ্বাস করি।”
তিনি আরও বলেন, “যারা এই দেশকে বিশ্বাসই করে না, তারা কীভাবে দেশের উন্নয়ন করবে? তারা তো বাংলাদেশকেই বিশ্বাস করে না। তাই আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আমরা জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেব না। জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তারা দেশকে রক্ষা করতে পারবে কি? পারবে না।”
তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য একটি বড় সুযোগ। আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই।”
জামায়াতের ভূমিকা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “আপনারা কি জামায়াতকে নতুন করে দেখছেন? আমরা নয়। আমরা স্বাধীনতার আগেও জামায়াতকে দেখেছি, আমাদের বাবা-চাচারাও দেখেছেন। আমার বাবা মির্জা রুহুল আমিন চোখা মিয়া প্রায়ই বলতেন—‘জামায়াত থেকে সাবধানে থেকো।’ আমি জিজ্ঞেস করতাম কেন, তিনি বলতেন—‘জামায়াত একটি মুনাফেক দল। কথা এক রকম, কাজ আরেক রকম।’”
তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান আন্দোলনে জামায়াত সমর্থন দেয়নি—এটা ঐতিহাসিক সত্য। আবার ১৯৭১ সালে যখন আমরা মুক্তিযুদ্ধ শুরু করলাম, তখন তারা এর বিরোধিতা করেছিল। তারা বলেছিল, পাকিস্তান ভাঙার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমরা কি শখ করে পাকিস্তান ভেঙেছি? পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন আমাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে, তখনই আমরা যুদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছি।”
তিনি বলেন, “পাকিস্তানি বাহিনী ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে। সেই সময় জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষ নিয়েছিল।”
সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ভোটারদের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান। তিনি নির্বাচিত হলে সারের সংকট দূর করার প্রতিশ্রুতিও দেন।














