ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উলিপুরে গণহত্যা দিবস পালন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, ইতিহাস স্মরণে আলোচনা সভা বাঘায় জ্বালানি সংকট  মুহুর্তে পাম্পে তালা ডিপোতে রাতের আঁধারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে মিজান চৌধুরী আগামী ৭৫ দিনের মধ্যে পরিবর্তনশীল উলিপুর গড়ার প্রতিশ্রুতি ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী যুক্তরাষ্ট্রের একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সাভারের আলোচিত সিরিয়াল কিলার সম্রাট মারা গেছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পুত্রের হাতে পিতা খুন ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি নেতা আবু হুরায়রা ছুরত ছাতক উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের ঈদের শুভেচ্ছা বদলগাছী আধাইপুর ইউনিয়নে ঝাড়ু দিয়ে চাল কুড়ানো বৃদ্ধার ঘরে পৌঁছালো ঈদ সামগ্রী 

বাঘায় জ্বালানি সংকট  মুহুর্তে পাম্পে তালা ডিপোতে রাতের আঁধারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

আবুল হাশেম রাজশাহী
  • আপডেট সময় : ০৫:১৫:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
28

রাজশাহীর বাঘায় টানা দুই সপ্তাহ ধরে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকলেও খোলা বাজারে চড়া দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা সদরের একমাত্র পেট্রোল পাম্পটি পুরো দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে লক্ষ্য করা গেছে, পাম্পের সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি থাকলেও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ। দুপুরে তেল আসবে-এমন আশায় অনেকেই অপেক্ষা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঘার মনিগ্রাম, তেঁতুলিয়া ও আড়ানীতে অন্তত পাঁচটি জ্বালানি ডিপো রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ডিপোতে গভীর রাতে তেলের সরবরাহ এসে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গোপনে বেশি দামে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ফলে দিনের বেলায় সাধারণ মানুষ জ্বালানি পাচ্ছেন না।অন্যদিকে, খোলা বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত দামের প্রায় তিন গুণ।

এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটর সাইকেল চালক, কৃষক ও পরিবহন শ্রমিকরা। চলতি বোরো মৌসুমে সেচযন্ত্র চালাতে না পেরে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অসংখ্য কৃষকরা। একই সাথে  পরিবহন খাতেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক স্থবিরতা।

স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক মোখলেসুর রহমান বলেন, “পাম্পে তেল নেই, কিন্তু বাইরে বেশি দামে পাওয়া যাচ্ছে-এটি স্পষ্ট কারসাজি।” কৃষক হাবিবের ভাষায়, “এই সময়ে সেচ না দিলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।”

ডিপো মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা পরস্পরের সঙ্গে যোগসাজশে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রতিবাদ করলে উল্টো প্রতিবাদকারীদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন, সরবরাহ বন্ধ থাকায় তারা বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ রেখেছেন।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারে অনিয়ম রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাঘায় জ্বালানি সংকটের এই চিত্র শুধু একটি স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং বাজার ব্যবস্থাপনা ও নজরদারির দুর্বলতারই প্রতিফলন। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অসাধু চক্রের মুনাফালোভী কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে , বিশেষ করে কৃষি ও পরিবহন খাতে এর প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নিয়মিত তদারকি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। তাই প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগই পারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে জনদুর্ভোগ লাঘব করতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাঘায় জ্বালানি সংকট  মুহুর্তে পাম্পে তালা ডিপোতে রাতের আঁধারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

আপডেট সময় : ০৫:১৫:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
28

রাজশাহীর বাঘায় টানা দুই সপ্তাহ ধরে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকলেও খোলা বাজারে চড়া দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা সদরের একমাত্র পেট্রোল পাম্পটি পুরো দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে লক্ষ্য করা গেছে, পাম্পের সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি থাকলেও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ। দুপুরে তেল আসবে-এমন আশায় অনেকেই অপেক্ষা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঘার মনিগ্রাম, তেঁতুলিয়া ও আড়ানীতে অন্তত পাঁচটি জ্বালানি ডিপো রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ডিপোতে গভীর রাতে তেলের সরবরাহ এসে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গোপনে বেশি দামে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ফলে দিনের বেলায় সাধারণ মানুষ জ্বালানি পাচ্ছেন না।অন্যদিকে, খোলা বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত দামের প্রায় তিন গুণ।

এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটর সাইকেল চালক, কৃষক ও পরিবহন শ্রমিকরা। চলতি বোরো মৌসুমে সেচযন্ত্র চালাতে না পেরে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অসংখ্য কৃষকরা। একই সাথে  পরিবহন খাতেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক স্থবিরতা।

স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক মোখলেসুর রহমান বলেন, “পাম্পে তেল নেই, কিন্তু বাইরে বেশি দামে পাওয়া যাচ্ছে-এটি স্পষ্ট কারসাজি।” কৃষক হাবিবের ভাষায়, “এই সময়ে সেচ না দিলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।”

ডিপো মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা পরস্পরের সঙ্গে যোগসাজশে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রতিবাদ করলে উল্টো প্রতিবাদকারীদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন, সরবরাহ বন্ধ থাকায় তারা বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ রেখেছেন।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারে অনিয়ম রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাঘায় জ্বালানি সংকটের এই চিত্র শুধু একটি স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং বাজার ব্যবস্থাপনা ও নজরদারির দুর্বলতারই প্রতিফলন। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অসাধু চক্রের মুনাফালোভী কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে , বিশেষ করে কৃষি ও পরিবহন খাতে এর প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নিয়মিত তদারকি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। তাই প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগই পারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে জনদুর্ভোগ লাঘব করতে।