ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভিজিএফ কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে ছাড় দেওয়া হবে না এমপি ব্যারিস্টার সালেহী রাজশাহীর বাঘায় সিএনজি ভটভটির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ আহত ২ দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম মহিপুরে ব্যবসায়ীদের গার্ডিয়ান নেই দখল অব্যবস্থাপনা ও দূষণে বাড়ছে দুর্ভোগ গোমস্তাপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ পালিত নান্দাইলে আগুনে পুড়ে নিঃস্ব কৃষক পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন- তথ্য প্রতিমন্ত্রী সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত হুইপদের শ্রদ্ধা নিবেদন সাভার পৌরসভা ১নং ওয়ার্ডের ভাগ্য উন্নয়ন শ্রমজীবি সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে ২৫০ জনকে ঈদ উপহার দেওয়া হয় সাভারের ভেজাল সয়াবিন তেল কারখানায় অভিযান ১ বছরের জেল ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করে উলিপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারীদের পিছনে রেখেই দিবস পালন জনমনে ক্ষোভ পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় ১২ তলা অত্যাধুনিক জানা হোটেল নির্মাণ এয়ারলাইন্স চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামানের উদ্যোগে দ্রুতগতিতে কাজ চলমান

দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম মহিপুরে ব্যবসায়ীদের গার্ডিয়ান নেই দখল অব্যবস্থাপনা ও দূষণে বাড়ছে দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
42

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ বিপণন কেন্দ্র পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানাধীন সদর ইউনিয়নের মহিপুর মার্কেট ও বাজার বর্তমানে চরম অব্যবস্থাপনা, দখলদারিত্ব ও নেতৃত্ব সংকটে জর্জরিত। দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা থাকলেও ব্যবসায়ীদের দেখভাল বা বাজারের শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর কোনো কমিটি বা নেতৃত্ব না থাকায় দিন দিন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন শত শত ট্রলার থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ মহিপুর বাজারে ওঠানামা করে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখান থেকে মাছ সরবরাহ করা হয়। ফলে এটি দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য ব্যবসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

কিন্তু এত বড় একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও তদারকির জন্য বর্তমানে কার্যকর কোনো পরিচালনা কমিটি না থাকায় বাজারে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের প্রশাসনিক শূন্যতা। ব্যবসায়ীরা জানান, অতীতে আলিপুর বাজারে আনন্দ-উল্লাস ও উৎসবমুখর পরিবেশে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে শক্তিশালী বাজার পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সেই কমিটির কার্যক্রম এখনো সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে চলমান রয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের নানা সমস্যা সমাধানেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু মহিপুর বাজার ও মার্কেটে এমন কোনো কার্যকর কমিটি বা নেতৃত্ব বর্তমানে নেই।

এর ফলে বাজারের শৃঙ্খলা রক্ষা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে চরম অবহেলা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্র সরকারি খাস জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে।

বাজারের আশপাশের বেশ কয়েকটি সরকারি জায়গা ইতোমধ্যে দখল হয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। শুধু তাই নয়, সরকারি খাস পুকুরও দখলের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও নদীর তীরবর্তী এলাকায় মাটি, আবর্জনা ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলে ভরাট করার মতো কর্মকাণ্ডও চলমান রয়েছে।

এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ সচেতনরা। অন্যদিকে বাজারের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক।

প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাছ বেচাকেনা হলেও মাছের বর্জ্য, পচা মাছ ও ময়লা-আবর্জনা সঠিকভাবে অপসারণের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে বাজারের চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।

এই কারণে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ ক্রেতাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় ক্রেতারা দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে বাজারে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের এত বড় একটি মার্কেট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী, গ্রহণযোগ্য ও সক্রিয় বাজার পরিচালনা কমিটি অত্যন্ত জরুরি। একটি কার্যকর কমিটি থাকলে বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অবৈধ দখলদারিত্ব রোধ করা এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে।

তারা আরও বলেন, দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠন করার পাশাপাশি বাজারের সরকারি খাস জমি ও পুকুর দখলমুক্ত করা, নদী ভরাট বন্ধ করা এবং বাজারের সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দক্ষিণাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে দখলদারিত্ব, দূষণ ও বিশৃঙ্খলার কবলে পড়ে তার ঐতিহ্য ও গুরুত্ব হারাতে পারে। তাই মহিপুর মার্কেটের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল মহলের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম মহিপুরে ব্যবসায়ীদের গার্ডিয়ান নেই দখল অব্যবস্থাপনা ও দূষণে বাড়ছে দুর্ভোগ

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
42

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ বিপণন কেন্দ্র পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানাধীন সদর ইউনিয়নের মহিপুর মার্কেট ও বাজার বর্তমানে চরম অব্যবস্থাপনা, দখলদারিত্ব ও নেতৃত্ব সংকটে জর্জরিত। দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা থাকলেও ব্যবসায়ীদের দেখভাল বা বাজারের শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর কোনো কমিটি বা নেতৃত্ব না থাকায় দিন দিন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন শত শত ট্রলার থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ মহিপুর বাজারে ওঠানামা করে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখান থেকে মাছ সরবরাহ করা হয়। ফলে এটি দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য ব্যবসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

কিন্তু এত বড় একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও তদারকির জন্য বর্তমানে কার্যকর কোনো পরিচালনা কমিটি না থাকায় বাজারে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের প্রশাসনিক শূন্যতা। ব্যবসায়ীরা জানান, অতীতে আলিপুর বাজারে আনন্দ-উল্লাস ও উৎসবমুখর পরিবেশে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে শক্তিশালী বাজার পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সেই কমিটির কার্যক্রম এখনো সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে চলমান রয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের নানা সমস্যা সমাধানেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু মহিপুর বাজার ও মার্কেটে এমন কোনো কার্যকর কমিটি বা নেতৃত্ব বর্তমানে নেই।

এর ফলে বাজারের শৃঙ্খলা রক্ষা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে চরম অবহেলা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্র সরকারি খাস জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে।

বাজারের আশপাশের বেশ কয়েকটি সরকারি জায়গা ইতোমধ্যে দখল হয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। শুধু তাই নয়, সরকারি খাস পুকুরও দখলের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও নদীর তীরবর্তী এলাকায় মাটি, আবর্জনা ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলে ভরাট করার মতো কর্মকাণ্ডও চলমান রয়েছে।

এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ সচেতনরা। অন্যদিকে বাজারের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক।

প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাছ বেচাকেনা হলেও মাছের বর্জ্য, পচা মাছ ও ময়লা-আবর্জনা সঠিকভাবে অপসারণের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে বাজারের চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।

এই কারণে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ ক্রেতাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় ক্রেতারা দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে বাজারে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের এত বড় একটি মার্কেট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী, গ্রহণযোগ্য ও সক্রিয় বাজার পরিচালনা কমিটি অত্যন্ত জরুরি। একটি কার্যকর কমিটি থাকলে বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অবৈধ দখলদারিত্ব রোধ করা এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে।

তারা আরও বলেন, দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠন করার পাশাপাশি বাজারের সরকারি খাস জমি ও পুকুর দখলমুক্ত করা, নদী ভরাট বন্ধ করা এবং বাজারের সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দক্ষিণাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে দখলদারিত্ব, দূষণ ও বিশৃঙ্খলার কবলে পড়ে তার ঐতিহ্য ও গুরুত্ব হারাতে পারে। তাই মহিপুর মার্কেটের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল মহলের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা।