ঢাকা ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ, উপাচার্যের অস্বীকার উলিপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ৫ প্রতিষ্ঠানকে ১০,৫০০ টাকা জরিমানা ভিসার মেয়াদ আর মাত্র তিন দিন আছে, এখন আমার কী করা উচিত জ্বালানি খাতে সংকটের আশঙ্কা ঢাকা ইউনিভার্সিটি ধামরাই স্টুডেন্টস’ ফোরাম কর্তৃক “ইফতার মাহফিল ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয় নান্দাইলে স্ত্রীর সামনে স্বামী’র ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করল পুলিশ মানিকগঞ্জে সম্পন্ন হলো বিমান মন্ত্রীর মাতা হুরুন নাহারের দাফন। নরসিংদীর ওবায়দুল্লাহ’র মরদেহের খণ্ডিত অংশ সাভারের উদ্ধার করে পুলিশ  গোদাগাড়ীতে র‍্যাবের অভিযান ৮ কেজি গান পাউডার ও কাঁচের গুঁড়া উদ্ধার উলিপুরে তিস্তা নদী রক্ষায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন, প্রশাসনের কাছে কঠোর পদক্ষেপের দাবি

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ, উপাচার্যের অস্বীকার

আবুল হাশেম রাজশাহী ব্যুরোঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
23

নির্মাণাধীন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর অবকাঠামো প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য ৯ শতাংশ ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে। তবে উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

নগরের সিলিন্দা এলাকায় প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নির্মাণকাজ চলছে। প্রথম ধাপে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রায় ৭৭৭ কোটি টাকার ছয়টি প্যাকেজের নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১,২০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন, একাডেমিক ভবন, ভিসির কার্যালয়, নার্সদের ডরমিটরি, মসজিদ, ভিসির বাসভবন ও দিবাযত্নকেন্দ্র এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নির্মাণ।

দরপত্র প্রক্রিয়ায় অসংগতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাবাসসুম এন্টারপ্রাইজ প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এতে দরপত্র প্রক্রিয়া বাতিলের অনুরোধ জানানো হয়।

এদিকে জেনিট করপোরেশন-এর স্বত্বাধিকারী আতাউর রহমান (টিপু) দাবি করেন, কাজ দেওয়ার জন্য উপাচার্য তাঁর কাছে ৯ শতাংশ ঘুষ দাবি করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে ৯ শতাংশ দাবি করা হলেও পরে তা ৮ ও ৭ শতাংশে নামানো হয়। ঘুষের অর্ধেক অর্থ আগাম পরিশোধ এবং বাকি অর্থের জন্য সিকিউরিটি চেক ও লিখিত সম্মতিপত্র দেওয়ার শর্তও ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে এসব শর্তে তিনি রাজি হননি।

আতাউর রহমান বলেন, “আমি বলেছি, সরকারি ক্রয় নীতিমালা মেনে স্বচ্ছভাবে দরপত্র আহ্বান করুন। যে যোগ্য, সে-ই কাজ পাক।”

অভিযোগ অস্বীকার করে উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক বলেন, “এটা সম্পূর্ণ অবাস্তব ও বানোয়াট অভিযোগ। একজন ঠিকাদার আমাকে ফোন করতেন, পরে আমি তাঁর নম্বর ব্লক করে দিই। কারও সঙ্গে আমার এ ধরনের কোনো কথা হয়নি।”

তিনি আরও জানান, ছয়টি প্যাকেজের মধ্যে একটির মূল্যায়ন শেষ হয়েছে এবং বাকি প্যাকেজগুলোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য ঘিরে প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দরপত্রের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তদন্তের দাবি উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ, উপাচার্যের অস্বীকার

আপডেট সময় : ০১:০১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
23

নির্মাণাধীন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর অবকাঠামো প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য ৯ শতাংশ ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে। তবে উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

নগরের সিলিন্দা এলাকায় প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নির্মাণকাজ চলছে। প্রথম ধাপে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রায় ৭৭৭ কোটি টাকার ছয়টি প্যাকেজের নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১,২০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন, একাডেমিক ভবন, ভিসির কার্যালয়, নার্সদের ডরমিটরি, মসজিদ, ভিসির বাসভবন ও দিবাযত্নকেন্দ্র এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নির্মাণ।

দরপত্র প্রক্রিয়ায় অসংগতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাবাসসুম এন্টারপ্রাইজ প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এতে দরপত্র প্রক্রিয়া বাতিলের অনুরোধ জানানো হয়।

এদিকে জেনিট করপোরেশন-এর স্বত্বাধিকারী আতাউর রহমান (টিপু) দাবি করেন, কাজ দেওয়ার জন্য উপাচার্য তাঁর কাছে ৯ শতাংশ ঘুষ দাবি করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে ৯ শতাংশ দাবি করা হলেও পরে তা ৮ ও ৭ শতাংশে নামানো হয়। ঘুষের অর্ধেক অর্থ আগাম পরিশোধ এবং বাকি অর্থের জন্য সিকিউরিটি চেক ও লিখিত সম্মতিপত্র দেওয়ার শর্তও ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে এসব শর্তে তিনি রাজি হননি।

আতাউর রহমান বলেন, “আমি বলেছি, সরকারি ক্রয় নীতিমালা মেনে স্বচ্ছভাবে দরপত্র আহ্বান করুন। যে যোগ্য, সে-ই কাজ পাক।”

অভিযোগ অস্বীকার করে উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক বলেন, “এটা সম্পূর্ণ অবাস্তব ও বানোয়াট অভিযোগ। একজন ঠিকাদার আমাকে ফোন করতেন, পরে আমি তাঁর নম্বর ব্লক করে দিই। কারও সঙ্গে আমার এ ধরনের কোনো কথা হয়নি।”

তিনি আরও জানান, ছয়টি প্যাকেজের মধ্যে একটির মূল্যায়ন শেষ হয়েছে এবং বাকি প্যাকেজগুলোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য ঘিরে প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দরপত্রের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তদন্তের দাবি উঠেছে।